কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাসের কথা উঠলেই আমাদের মনে কালো বিড়াল, রাতে নখ না কাটা বা হাঁচি দিলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার মতো নানা ধারণার কথা আসে। তবে শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এমন কিছু অদ্ভুত কুসংস্কার রয়েছে, যা আজও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসবের কোনও প্রমাণ নেই। তবুও পারিবারিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের সামাজিক অভ্যাসের কারণে এই বিশ্বাসগুলো এখনও টিকে রয়েছে। জেনে নিন বিশ্বের এমনই ৬টি অদ্ভুত কুসংস্কারের কথা।
১. রাতে ঝাড়ু দিলে নাকি ঘর থেকে টাকা-পয়সা বেরিয়ে যায়: ভারত, বাংলাদেশ-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারে এখনও এই বিশ্বাস প্রচলিত। মনে করা হয়, সূর্যাস্তের পরে ঝাড়ু দিলে ঘরের লক্ষ্মী চলে যান এবং সংসারে অর্থের অভাব দেখা দেয়। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেকের মতে, আগে বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঝাড়ু দিলে ছোটখাটো মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। সেই থেকেই এই বিশ্বাসের জন্ম।
২. ঘরের ভিতরে ছাতা খোলা অশুভ: ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখনও অনেকে মনে করেন, বাড়ির ভিতরে ছাতা খুললে দুর্ভাগ্য নেমে আসে। ইতিহাসবিদদের মতে, অতীতে বড় ছাতা ঘরের মধ্যে খুললে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। তাই মানুষকে সতর্ক করতেই এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
৩. ডাইনিং টেবিলের উপর জুতো রাখা নিষেধ: ইংল্যান্ডে একটি পুরনো বিশ্বাস রয়েছে যে, টেবিলের উপর নতুন জুতো রাখলে পরিবারের অমঙ্গল হতে পারে। এই ধারণার শিকড় খনি শ্রমিকদের সংস্কৃতিতে। কাজের সময় কোনও শ্রমিক মারা গেলে তাঁর জুতো টেবিলের উপর রাখা হত। সেই থেকেই জুতোর সঙ্গে অশুভ ঘটনার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।
৪. পাখির মল পড়া সৌভাগ্যের লক্ষণ: আমাদের কাছে এটি বিরক্তিকর হলেও রাশিয়া, তুরস্ক এবং ইউরোপের কিছু দেশে বিশ্বাস করা হয়, কারও মাথা, পোশাক বা গাড়িতে পাখির মল পড়লে খুব শিগগিরই অর্থলাভ বা সুখবর আসতে পারে। তাই অনেকে এটিকে দুর্ভাগ্য নয়, বরং সৌভাগ্যের সংকেত বলে মনে করেন।
৫. দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করবেন না: রাশিয়ায় এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি কুসংস্কার। সেখানে বিশ্বাস করা হয়, দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে হাত মেলালে সম্পর্কের মধ্যে ঝামেলা, ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ভাগ্য আসতে পারে। তাই আগে একপাশে এসে দাঁড়িয়ে তারপর করমর্দন করার রীতি রয়েছে।
৬. ১৩ সংখ্যাকে ভয় পান অনেকেই: পশ্চিমের বহু দেশে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ বলে মনে করা হয়। অনেক হোটেল, অফিস বা বহুতল ভবনে ১৩ নম্বর তলা বা ১৩ নম্বর ঘরই রাখা হয় না। ১২-এর পর সরাসরি ১৪ নম্বর লেখা হয়। অনেক মানুষ শুক্রবার এবং ১৩ তারিখ একসঙ্গে পড়লে সেদিন গুরুত্বপূর্ণ কাজও এড়িয়ে চলেন।
কুসংস্কার কেন টিকে আছে? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ অনিশ্চয়তা ও ভয় কাটাতে অনেক সময় এমন বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে। কোনও ঘটনার সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে ভাল বা খারাপ কিছু ঘটলে সেটিই ধীরে ধীরে কুসংস্কারে পরিণত হয়।
যদিও আধুনিক বিজ্ঞান এসব বিশ্বাসের কোনও সত্যতা খুঁজে পায়নি, তবুও বিশ্বের নানা প্রান্তে লক্ষ লক্ষ মানুষ আজও এই অদ্ভুত কুসংস্কার মেনে চলেন। এগুলি আসলে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং লোকবিশ্বাসেরই একটি অংশ।
















