কাজের চাপ, ডেডলাইন আর সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ক্লান্তি-আধুনিক অফিস জীবনে স্ট্রেস যেন নিত্যসঙ্গী। এই একঘেয়েমি ভাঙতে জাপানের একটি প্রযুক্তি সংস্থা নিয়েছে একেবারে অভিনব পথ। টোকিওভিত্তিক টেক কোম্পানি কিউনোট অফিসে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে ‘নিয়োগ’ করেছে ১১টি বিড়াল! শুনতে অবাক লাগলেও, এই উদ্যোগেই যে কোম্পানিতে হচ্ছে দারুণ কাজ, এমনটা বলছেন সংস্থার কর্মীরাই।

চীনের এক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০০৪ সালে কিউনোট প্রথম একটি বিড়াল দত্তক নেয়। ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। এই বিড়ালগুলো শুধু অফিসে আসে-যায় না, বরং পুরো সময় অফিসেই থাকে। কর্মীদের ডেস্কের পাশে ঘোরাফেরা, ল্যাপটপের পাশে ঘুম, বা মিটিংয়ের মাঝখানে হঠাৎ হাজির-সব মিলিয়ে অফিসের পরিবেশে এনে দিয়েছে এক স্বস্তির ছোঁয়া।

কর্মীদের বক্তব্য, বিড়ালদের উপস্থিতি মন ভাল রাখে, কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিতে উৎসাহ দেয় এবং সহকর্মীদের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করে। কেউ একটু বিরক্ত বা চাপে থাকলে, একটি বিড়াল কোলে এলেই নাকি মন হালকা হয়ে যায়।

ওই কোম্পানিতে বিড়ালকে শুধু পোষ্য হিসেবে দেখা হয় না, তারা সংস্থারই ‘অংশ’। প্রতিটি বিড়ালকে দেওয়া হয়েছে মজার মজার পদবি। কেউ ‘অফিস ক্লার্ক’, কেউ ‘ম্যানেজার’, আবার কেউ ‘অডিটর’! এই অভিনব সংস্কৃতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন কর্মী নিয়োগের সময় চাকরির শর্তে স্পষ্ট লেখা থাকে, প্রার্থীকে অবশ্যই বিড়ালপ্রেমী হতে হবে।

অফিসটিকে বিড়াল-বান্ধব করে তুলতেও কম খরচ করেনি সংস্থা। অফিস জুড়ে বসানো হয়েছে ১২টি ক্যাট টয়লেট, দেওয়ালে বিশেষ স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী আবরণ, আর বিড়ালদের চলাফেরার জন্য তাক ও শেলফ। ফলে বিড়ালরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারে, আবার অফিসের পরিকাঠামোরও ক্ষতি হয় না। এই উদ্যোগের ফল স্পষ্ট, কর্মীরা কম স্ট্রেস অনুভব করছেন, টিম বন্ডিং বেড়েছে, আর অফিসে কাজের পরিবেশ হয়েছে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।