শরীর সুস্থ রাখতে আমরা সাধারণত মাছ, ডিম, দুধ, ফল বা সবুজ শাকসবজি খাওয়ার উপর জোর দিই। কিন্তু অনেকেই মুরগির লিভার খেতে পছন্দ করেন না। কেউ স্বাদের জন্য এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ ভাবেন এতে বিশেষ কোনও উপকার নেই। অথচ পুষ্টিবিদদের মতে, মুরগির লিভার এমন একটি খাবার, যেখানে অল্প পরিমাণেই পাওয়া যায় প্রচুর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ। তাই একে অনেক সময় 'সুপারফুড' বা 'পুষ্টির পাওয়ারহাউস' বলা হয়।
কেন এত উপকারী মুরগির লিভার? মুরগির লিভারে রয়েছে ভিটামিন বি১২, ফোলেট, হিম আয়রন, কপার এবং ভিটামিন এ। এই সব পুষ্টি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে।
মুরগির লিভারের সবচেয়ে বড় গুণ হল এতে থাকা হিম আয়রন। এটি এমন এক ধরনের আয়রন, যা শরীর খুব সহজে শোষণ করতে পারে। তাই যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে বা রক্তাল্পতার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিমিত পরিমাণে মুরগির লিভার উপকারী হতে পারে। আয়রন রক্তে অক্সিজেন বহন করতে সাহায্য করে। ফলে দুর্বলতা ও ক্লান্তিও কমতে পারে।
মুরগির লিভারে প্রচুর ভিটামিন বি১২ থাকে। এই ভিটামিন স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। বি১২-এর ঘাটতি হলে হাত-পা ঝিনঝিন করা, দুর্বল লাগা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মুরগির লিভারে থাকা ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এতে থাকা ফোলেট নতুন কোষ তৈরি এবং ডিএনএ গঠনে সাহায্য করে। অন্যদিকে কপার শরীরে আয়রনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
মুরগির লিভার যতই পুষ্টিকর হোক, এটি প্রতিদিন বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে ভিটামিন এ-এর মাত্রা অনেক বেশি। অতিরিক্ত ভিটামিন এ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড, গাউট, লিভারের রোগ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই খাবার খাওয়া উচিত।
















