আজকাল জন্মদিনের ট্রেন্ডে কত কিছুই না দেখা যায়! নিজের জন্মদিন তো বটেই, অনেকে আবার পোষা কুকুর বা বিড়ালের জন্মদিনও মহাসমারোহে পালন করেন। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী মডেল ও

অ্যাডাল্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর জ্যাসমিন টিয়া এই ট্রেন্ডকে এমন এক চরম টুইস্ট দিয়েছেন, যা দেখে থ বনে গেছে নেটপাড়া! কোনও মানুষ বা পোষা প্রাণী নয়, তিনি প্রতি বছর ধুমধাম করে কেক কেটে পালন করেন ওঁর নিজের স্তনের জন্মদিন!

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি। প্রতি বছর ওঁর স্তন প্রতিস্থাপনের (ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট) দিনটিকে ঘিরে বিশাল পার্টির আয়োজন করা হয়,কাটা হয় স্পেশাল কেক এবং ওঁর লাখো অনুরাগী সেই উপলক্ষে ওনাকে দামি দামি উপহারও পাঠান। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষও সমাজমাধ্যমে দেখেছেন সেই পার্টি । 

আসলে এর পেছনে রয়েছে এক শারীরিক পরিবর্তনের গল্প। ২০২১ সালে অতিরিক্ত ওজন কমানোর জার্নিতে ওঁর স্তনের স্বাভাবিক সাইজ প্রায় পুরোপুরি কমে যায়। নিজের আগের লুক মিস করায় ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে জ্যাসমিন একটি স্তন প্রতিস্থাপন সার্জারি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। 

সার্জারির খরচ: এই অস্ত্রোপচারের পেছনে তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা (১৫,০০০ পাউন্ড) খরচ করেন।

নতুন সাইজ: সার্জারির পর তিনি ওঁর স্তনের সাইজ বাড়িয়ে ‘34DD’ করান।


সার্জারির এক বছর পূর্তিতে ২০২২ সালে তিনি মজা করেই প্রথমবার এই ব্রেস্ট অ্যানিভার্সারি সেলিব্রেট করেছিলেন। অনলাইনে লাইভ এসে ভক্তদের সামনে কেক-ও কেটেছিলেন! কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বিগত ৫ বছরে এটি ওঁর একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে জ্যাসমিন-এর ১ মিলিয়নেরও (১০ লক্ষ) বেশি ফলোয়ার রয়েছে, যাঁরা প্রতি বছর এই অদ্ভুত জন্মদিনের পার্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেন। জ্যাসমিন ওঁর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আমার আগের স্তনের সাইজ খুব মিস করছিলাম, তাই ২০ লাখ খরচ করে ওগুলোকে আগের চেয়েও বেশি বাউন্সি আর আকর্ষণীয় করে তুলি। এখন দেখলে কেউ বলতেই পারবে না যে এগুলো আসল নয়! আর আমার ভক্তদের কাছেও এখন এটা একটা মেগা ইভেন্ট।”

এই বিশেষ জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ওঁর ভক্তরা ওনাকে নানা ধরনের পার্সোনালাইজড গিফট, দামি জুয়েলারি এবং বিলাসবহুল অন্তর্বাস উপহার হিসেবে পাঠান! 

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন।
সমর্থকদের মতে, অনেকে একে চরম ‘বডি পজিটিভিটি’ এবং ‘সেলফ লাভ’ বা নিজেকে ভালবাসার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মা হওয়ার পর বা ওজন কমানোর পর যেসব মহিলারা বডি কনফিডেন্সের অভাবে ভোগেন, তাঁদের কাছে জ্যাসমিন-এর এই আত্মবিশ্বাস এক ধরণের অনুপ্রেরণা।
সমালোচকদের মতে, অন্যদিকে একটা বড় অংশ, বিশেষ করে ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা একে সস্তা ‘পাবলিসিটি স্ট্যান্ট’ এবং দৃষ্টি আকর্ষণের নোংরা চেষ্টা বলে দেগে দিয়েছেন। অনেকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ! এবার কি তবে পেট, স্তন, নিতম্ব সবকিছুর আলাদা আলাদা জন্মদিন পালন হবে?”

ডাক্তারদের মতে, সঠিক চিকিৎসকের দ্বারা সিলিকন বা স্যালাইন ইমপ্ল্যান্ট করালে সুন্দর ও ন্যাচারাল রেজাল্ট পাওয়া যায় ঠিকই, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ইনফেকশনের ঝুঁকিও থাকে। তবে সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জ্যাসমিন ওঁর এই সিদ্ধান্তে অনড়। ওঁর মতে, এই প্রতিস্থাপিত স্তন এখন ওঁর নতুন পরিচয়ের অংশ, যা ওঁকে নিজের শরীরকে আরও বেশি উপভোগ করতে শেখায়।