ভীষণ স্পষ্টবাদী? সোজা কথা মুখের উপর বলে দেন? আখেরে এতে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?
চাণক্য সেই কোন অতীতে বলে গিয়েছেন অতিরিক্ত স্পষ্টবাদী বা সোজাসাপটা হওয়া মোটেই ভাল কথা নয়। বরং বেজায় ক্ষতিকর। কিন্তু কেন?
চাণক্য নীতিকে, আজও, এত বছর পরেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর নীতিতে চাণক্য স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে গিয়েছেন মানুষের ব্যবহার, ধরন সম্পর্কে। সেখানেই তিনি কথা বলেছেন অতিরিক্ত সোজাসাপ্টা বা স্পষ্টবাদী হলে কী সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আচার্য চাণক্যের মতে, অতিরিক্ত স্পষ্টবাদী হওয়া আদতে অভিশাপের মতো। অতিরিক্ত সোজা, কোনও রকম ডালপালা ছাড়া গাছ আগে কাটা পড়ে জঙ্গল। তারপর ব্যাঁকা, ডালপালা যুক্ত গাছেরা। কেন? এখানেই লুকিয়ে আছে অতিরিক্ত স্পষ্টবাদী হলে কোন সমস্যায় পড়তে হয় তার উত্তর।
সোজা গাছকে কাটতে কষ্ট নেই। জটিল, আঁকাবাঁকা গাছকে কাটতে কষ্ট আছে। ঠিক তেমন ভাবেই সোজাসাপ্টা, স্পষ্টবাদী হলে মানুষ অতিরিক্ত সুবিধা নেয়। এতে আখেরে ক্ষতি হয় সেই মানুষটার।
যাঁরা স্পষ্টবাদী বা সোজাসাপ্টা হন তাঁদের অনেকেই দুর্বল মনে করেন। তাঁদের দিয়ে দুর্বৃত্ত বা জটিল মানুষেরা নিজের কাজ হাসিল করিয়ে নিতে চান।
অতিরিক্ত সোজাসাপ্টা বা স্পষ্টবাদী হলে ভুল জিনিসের প্রতিবাদ করেন। ঠিক, ভুলের ধারণা তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়। এতে মানুষের খারাপ নজরে পড়েন। অনেক সময় তাঁরা আশেপাশের জটিল মানুষদের মনোভাব, জটিল প্ল্যান ধরতে পারেন না। আর সেই পাতা ফাঁদে পা দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত হয় ঠকে যান নইলে আঘাত পান।
তাহলে কি করণীয়? স্পতবাদী হন, কিন্তু একই সঙ্গে নিজে পিঠ বাঁচিয়ে চলতে শিখুন। স্মার্ট হন। আত্মকেন্দ্রিক না হলেও, কোন পরিস্থিতি কীভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত সেটা শিখুন। কখন হ্যাঁ, আর কখন না বলতে হবে সেটা বুঝুন। সবেতেই নিজের মতামত জানাতে যাবেন না। নিজের বাউন্ডারি মেনে চলুন।
