বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রতি বছর নতুন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২ কোটি ৬ লক্ষ নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হলেও আগামী কয়েক দশকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ ধরা পড়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

WHO জানিয়েছে, বিশ্বের বহু দেশে এখনও ক্যানসার প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে রোগ নির্ণয় দেরিতে হওয়ায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক রোগী অর্থের অভাবে সময়মতো চিকিৎসাও করাতে পারেন না। ফলে শুধু রোগীরাই নন, তাঁদের পরিবারও মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্যানসার এড়ানো সম্ভব না হলেও জীবনযাপনে বদল আনলে এবং একটু সচেতন হলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা, মদ্যপান কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় টিকাকরণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে। সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে রোগ দ্রুত ধরা পড়লে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সবার জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন থেকেই সরকার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে উদ্যোগী হলে ভবিষ্যতে ক্যানসারের বাড়তে থাকা বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।