কখনও দুর্ঘটনা, হঠাৎ বড় বিপদ বা প্রাণসংকটের মুহূর্তে মানুষ এমন কিছু কাজ করে ফেলে, যা স্বাভাবিক সময়ে ভাবাও যায় না। তখন মনে হয় শরীর যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজেই নিয়ে নেয়। আসলে এই সময় শরীরের ভেতরে একাধিক জৈবিক প্রক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করতে শুরু করে, যার একটাই লক্ষ্য প্রাণ বাঁচানো। তাহলে জীবন-মৃত্যুর পরিস্থিতিতে শরীর কীভাবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, জেনে নিন সেই বিষয়ে-
১️. মস্তিষ্ক তখন বেশি ভাবতে দেয় নাঃ জীবন-মৃত্যুর মুহূর্তে মস্তিষ্কের যে অংশটি যুক্তি দিয়ে ভাবার কাজ করে, তা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তার বদলে কাজ শুরু করে স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা। ফলে মানুষ তখন 'কী ঠিক, কী ভুল' ভাবার সময় পায় না। শরীর নিজে থেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়।
২️. সময়ের গতি যেন কমে যায়ঃ অনেকেই বলেন, দুর্ঘটনার সময় মনে হয় সব কিছু ধীরে ধীরে ঘটছে। আসলে তখন মস্তিষ্ক খুব দ্রুত অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। এই অতিরিক্ত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কারণেই সময়কে আমাদের কাছে দীর্ঘ মনে হয়।
৩️. ব্যথা কম অনুভূত হয়ঃ বিপদের মুহূর্তে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক বার হয়। এই এন্ডোরফিন প্রাকৃতিক ব্যথানাশকের মতো কাজ করে। তাই গুরুতর আঘাত লাগলেও তখন খুব বেশি ব্যথা বোঝা যায় না।
৪. চোখ ও মন এক জায়গায় আটকে যায়ঃ এই সময় অনেকেরই আশপাশের সব কিছু ঝাপসা লাগে, শুধু বিপদের উৎসটাই স্পষ্ট দেখা যায়। একে বলা হয় টানেল ভিশন। এতে শরীর অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিয়ে কেবল বাঁচার পথেই মনোযোগ দেয়।
৫️. হঠাৎ অদ্ভুত শক্তি চলে আসেঃ বিপদের সময় শরীর থেকে অ্যাড্রিনালিন হরমোন বার হয়। এই হরমোনের প্রভাবে মানুষ এমন শক্তি পায়, যা স্বাভাবিক সময়ে সম্ভব নয়। যেমন ভারী জিনিস তোলা, দ্রুত দৌড়ানো ইত্যাদি। তবে বিপদ কেটে গেলে এই শক্তি ফুরিয়ে যায়।
৬️. স্মৃতি গুলিয়ে যেতে পারেঃ অনেকেই পরে ঠিক করে মনে করতে পারেন না কীভাবে ঘটনাটা ঘটেছিল। কারণ অতিরিক্ত স্ট্রেসে মস্তিষ্ক স্মৃতি ঠিকভাবে সাজাতে পারে না। ফলে স্মৃতির কিছু অংশ হারিয়ে যায় বা এলোমেলো হয়ে যায়।
৭️. বিপদ কাটলেই কাঁপুনি ও দুর্বলতাঃ বিপদ শেষ হলে অনেকের হাত-পা কাঁপে, মাথা ঘোরে বা শরীর খুব দুর্বল লাগে। এটা ভয় পাওয়ার কারণে নয়, বরং শরীরের জমে থাকা উত্তেজনা বেরিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
জীবন-মৃত্যুর পরিস্থিতিতে শরীর এক অসাধারণ রক্ষা ব্যবস্থায় কাজ করে। মস্তিষ্ক, হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্র একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে মানুষকে সেই মুহূর্তে টিকে থাকার শক্তি দেয়। বিপদ কেটে গেলে ধীরে ধীরে শরীর আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।
