কয়েক বছর আগেও বাঙালির হেঁশেলে শুধু আটা-ময়দা ঠাঁই পেত। কিন্তু এখন স্বাস্থ্য সচেতনতার সঙ্গেই এরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের শস্যের ব্যবহার বেড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাজরাও। বাজরা হল এমন একটি প্রাচীন ও সম্পূর্ণ শস্য, যা আজকের আধুনিক জীবনযাত্রায় নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজরায় রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফাইবার। এই দুই উপাদান দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে এবং অকারণে খিদে পাওয়া কমায়। তাই যারা ওজন কমাতে চান বা ফিট থাকতে চান, তাঁদের ডায়েটে বাজরা রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

শুধু ওজন কমানোই নয়, বাজরা হল আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের ভাল উৎস। আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে, ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতা ভাল রাখে এবং জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত বাজরা খেলে মাংসপেশির শক্তি বাড়ে এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয় না যা সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

হজমের ক্ষেত্রেও বাজরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজমের সমস্যায় ভুগলে বাজরা খেলে উপকার পাবেন। 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাজরা একটি নিরাপদ খাবার বলে মনে করা হয়। কারণ বাজরার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। একইভাবে পিসিওএস-এ ভোগা মহিলাদের ক্ষেত্রেও বাজরা উপকারী হতে পারে বলে মত পুষ্টিবিদদের।

বাজরা ৫টি সহজ উপায়ে খেতে পারেন। যেমন-

১. বাজরা রুটিঃ সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ উপায় হল বাজরা রুটি। শীতকালে বাজরা রুটি শরীর গরম রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়াবেটিস বা ওজন কমানোর ডায়েটে বাজরা রুটি বিশেষভাবে উপকারী।

২. পোরিজঃ সকালের ব্রেকফাস্টের জন্য বাজরা পোরিজ একটি দারুণ বিকল্প। বাজরা ভিজিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করে হালকা নুন বা সবজি মিশিয়ে পোরিজ বানানো যায়। এটি সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। 

৩. দোসাঃ চাল বা ডালের বদলে বাজরা দিয়ে তৈরি বাজরা দোসা এখন বেশ জনপ্রিয়। বাজরা ভিজিয়ে ডাল মিশিয়ে ব্যাটার বানিয়ে দোসা করলে বেশ হালকা, মুচমুচে ও স্বাস্থ্যকর হয়। এটি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪. উপমা বা খিচুড়িঃ রোজকার খাবারে পরিবর্তন আনতে চাইলে বাজরা উপমা বা বাজরা খিচুড়ি বানাতে পারেন। এতে সবজি ও ডাল যোগ করলে খাবার আরও পুষ্টিকর হয়। যারা দুপুরে ভারী খাবার এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য বাজরা খিচুড়ি খুবই উপকারী।

৫. লাড্ডুঃ মিষ্টি খেতে ভালবাসেন কিন্তু স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবছেন? তাহলে বাজরা লাড্ডু হতে পারে ভাল সমাধান। বাজরা ভেজে গুড় ও বাদাম মিশিয়ে লাড্ডু বানালে তা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। এটি এনার্জি দেয় এবং মিষ্টি খাওয়ার ক্রেভিং মেটায়।