সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার জন্য বছরের ২৪টি একাদশীর মধ্যে যোগিনী একাদশী অন্যতম পবিত্র ব্রত হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে জীবনের নানা পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
২০২৬ সালে তিথি গণনা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও পঞ্জিকা অনুযায়ী স্মার্ত মত অনুসারে ১০ জুলাই, শুক্রবার যোগিনী একাদশী পালিত হবে। অন্যদিকে, কিছু বৈষ্ণব সম্প্রদায় ১১ জুলাই ব্রত পালন করবেন। ব্রতের পারণ বা উপবাস ভঙ্গ সাধারণত দ্বাদশী তিথিতে নির্ধারিত সময়ে করা হয়।
শুভ সময়
১০ জুলাই সকাল ৮ টা ১৬ মিনিটে একাদশী তিথি আরম্ভ
১১ জুলাই ভোর ৫ টা ২২ মিনিটে একাদশী তিথি সমাপ্ত
পারণ সময়: ১১ জুলাই দুপুর ১ টা ৫০ থেকে বিকাল ৪ টে ৩৬ মিনিট৷
কীভাবে পালন করবেন যোগিনী একাদশীর ব্রত?
ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ পোশাক পরে ভগবান বিষ্ণুর সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো শুরু করুন। তুলসী পাতা, হলুদ ফুল, ফল, ধূপ ও নৈবেদ্য নিবেদন করুন। 'ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়' মন্ত্র জপ করলে শুভ ফল লাভ হয় বলে মনে করা হয়। অনেক ভক্ত এই দিনে বিষ্ণু সহস্রনাম বা গীতা পাঠও করেন। উপবাসে কেউ নির্জলা থাকেন, আবার কেউ ফল ও দুধ গ্রহণ করে ব্রত পালন করেন।
যোগিনী একাদশীর মাহাত্ম্য
পুরাণে বলা হয়েছে, যোগিনী একাদশীর ব্রত পালন করলে অতীতের বহু পাপকর্মের প্রায়শ্চিত্ত হয় এবং মানসিক শান্তি লাভ করা যায়। এই ব্রতের পুণ্যফল বহু ব্রাহ্মণকে অন্নদান করার সমতুল্য বলেও উল্লেখ রয়েছে। তাই সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির কামনায় বহু ভক্ত এই উপবাস পালন করেন।
ব্রতের দিন কী করবেন?
ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর আরাধনা করুন।
ভগবান বিষ্ণুকে তুলসী পাতা অর্পণ করে মন্ত্র জপ করুন।
সম্ভব হলে দান-ধ্যান গরীবদেরকে সাহায্য করুন।
নিরামিষ ও সাত্ত্বিক জীবনযাপন করুন এবং ক্রোধ, মিথ্যা ও অশুভ চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে যোগিনী একাদশীর ব্রত পালন করলে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় সুখ-সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়।















