বর্তমান সময়ে অনেকেই ফিট থাকতে, ওজন কমাতে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করে থাকেন। তবে বিষয়টা কিন্তু হাল আমলের আমদানি নয়। প্রাচীন কালেও মানা হতো। যদিও কারণ ওজন কমানো ছিল না। তাহলে কী, কারাই বা সেটা মেনে চলতেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
মিশর সভ্যতা নানা কারণে আকর্ষণীয়। সে তাঁদের মমি বলুন বা পিরামিড কিংবা অন্যান্য কারণ। এসবের পাশাপাশি এই সভ্যতার আরও একটি বিষয় কিন্তু ছিল দারুণ নজরকাড়া। কী? তাদের খাবার ধরন।
মিশরের রাজারা ৩ হাজার বছর ধরে গোটা দিনে মাত্র একবার খেতেন। হ্যাঁ, ঠিক পড়লেন। অর্থের অভাব, দারিদ্রতা, এসব কিন্তু মোটেই কারণ ছিল না। তবুও তাঁরা কোনও রকম প্রাতঃরাশ বা মধ্যাহ্নভোজন করতেন না। কেবল সূর্যাস্তের সময় একবারই খাবার খেতেন। তারপর খিদে পেলে শুধু জল খেতেন। মাঝে খুচখাচ খাওয়া তো ছেড়েই দিন! বাকি গোটা দিন তাঁদের মন, ধ্যান, ধারণা সব থাকত কেবল একটাই দিকে, কাজ। কিন্তু কেন? সেই কারণ এবার বৈজ্ঞানিকরা বিশ্লেষণ করলেন।
বর্তমান সময়ের ফিজিওলজি বলছে, এতক্ষণ ধরে তাঁরা উপোস করে বা না খেয়ে থাকতেন বলে তাঁদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা চোখে পড়ার মতো কম থাকত। রক্ত মস্তিষ্কে দ্রুত চলাচল করত। হজমের বদলে রক্ত মস্তিষ্ককে গুরুত্ব দিত। কিটোন উৎপাদন বেশি হতো। একই সঙ্গে শরীরের যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমতো।
এ তো গেল ফিজিওলজির ব্যাখ্যা। এর নিউরো মেটাবলিক দিকও আছে। হজম করতে বেশ এনার্জি ক্ষয় হয়। কিছু খেলেই শরীরের নজর পেটের দিকে চলে যায়। এতক্ষণ কিছু না খেয়ে থাকার ফলে সেটা কমতো। মনোযোগ কাজের দিকেই থাকত। সিদ্ধান্ত নিতে তেমন ভুল হতো না। মেন্টাল ক্যালিরিটি বজায় থাকত।
অনেকেই ভাবেন এই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, ইত্যাদি বোধহয় ওজন কমানোর জন্য উপকারী। না, তার বাইরেও এর একাধিক উপকারিতা রয়েছে। ফলে প্রাচীন কালে এই সভ্যতার রাজারা যে নিয়ম মেনে চলতেন, সেটা বর্তমান সময়ে একাধিক তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্ব যেমন জ্যাক ডরসে, প্রমুখ মেনে চলেন। আপনিও এটি ফলো করবেন নাকি?
