রোজ সকালে করা এই ছোট্ট অথচ সাধারণ ভুলেই লুকিয়ে রয়েছে হৃদরোগের ঝুঁকি! ৮০ শতাংশ হৃদরোগের নেপথ্যে নাকি এই কারণটাই থাকে, দাবি এক জাপানি কার্ডিওলজিস্টের। এই জাপানি চিকিৎসক গত ২২ বছর ধরে হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে, বিশেষ করে খাতায় কলমে বা উপর উপর সুস্থ থাকা ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর মতে, সকালের এই অভ্যাসের কারণেই বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। 

আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার ওজন সঠিক, মোটা নন বা মেদ বেশি নেই তাই আপনি ফিট। বা আপনি মদ্যপান করেন না, সিগারেট খান না, তাই আপনি নিরাপদ। এমনকী আপনার বাড়ির কেউ কখনও হার্ট অ্যাটাকে মারা যাননি বা কারও হয়নি বলে আপনারও হবে না। কিন্তু দেখা গিয়েছে এই বিষয়গুলো যাঁদের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে তাঁদের অনেকেরও ৪০ বা ৫০ বছরে এসে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাহলে সমস্যা লুকিয়ে কোথায়? 

এই সমস্ত ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত অথচ শকিং মিল খুঁজে পেয়েছেন এই চিকিৎসক। কী সেটা? এঁদের সকাল শুরুই হয় স্ট্রেস নিয়ে। বিছানা ছাড়ার আগেই স্ট্রেসড থাকেন এঁরা। ঘুম ভাঙতেই চট করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। ফলে মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে গেলেও, শরীরের সেই সঙ্গে তাল মেলাতে সময় লাগে। আর খেসারত দিতে হয় হার্টকে। স্ট্রেসড অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেই বিছানা ছাড়লে রক্তচাপ বেড়ে যায়। কর্টিসল বেড়ে যায়। অন্যদিকে শিরা, উপশিরা সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে এই জিনিসগুলো অল্প বয়সীদের হৃদয়ের জন্য শকের মতো। অন্যদিকে বয়স্কদের কাছে এটা রীতিমত থ্রেটের সমান। 

এই জাপানি কার্ডিওলজিস্ট তাঁর গবেষণা থেকে এও জানিয়েছেন যে সকালের ৬০ সেকেন্ড বাকি গোটা দিন কেমন যাবে সেটা ঠিক করে দেয়। শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লে সেটা শরীরে প্যানিক রেসপন্স তৈরি করে। মস্তিষ্ক ভাবে যে আমি জেগে গিয়েছি। কিন্তু শরীর ভাবে কেউ তাকে আক্রমণ করেছে। 

তাহলে এক্ষেত্রে কী করণীয়? 

রোজ সকালে ঘুম ভাঙার পর অন্তত কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। ৪ থেকে ৫ বার ধীর গতিতে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এবার ধীরে ধীরে উঠে বসুন, মাথা নিচু করে রাখুন। ওভাবে আরও কয়েক সেকেন্ড থাকুন। তারপর উঠে দাঁড়ান। এতে রক্তচাপ বাড়বে না। স্ট্রেস হবে না। মন, শরীর দুই শান্ত থাকবে। এতে আপনার হৃদয়ও ভাল থাকবে। 

এটা মেনে চললে কি আদৌ কোনও ফলাফল পাওয়া যাবে? এই জাপানি চিকিৎসক তাঁর রোগীদের উপর এই নিয়ম প্রয়োগ করে দেখেছেন ভাস্কুলার স্ট্রেস প্রায় ৫২ শতাংশ কমে যায়। অতিরিক্ত এনার্জি পাওয়া যায়। এমনকী সকালের কর্টিসল ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বুকের ধুকপুকানি কমে, কমে বুকের কাছটায় ভারী হয়ে থাকার মতো সমস্যা।