মার্চ মাসের একদম গোড়াতেই গোটা দেশ মেতে উঠবে রঙের উৎসবে। তবে ভারতের সব জায়গায় কিন্তু একই রকম ভাবে হোলি বা দোল উদ্‌যাপিত হয় না। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এই দেশের কোন প্রান্তে কী ধরনের দোল খেলা হয় এবং কীই বা তার বিশেষত্ব জেনে নিন। 

মাসান হোলি: বর্তমানে ইনস্টাগ্রামের যুগে এই হোলির বিষয়ে অনেকেই জানেন। নেটমাধ্যমের কথায় 'ট্রেন্ডিং'। ভারতের অন্যতম অদ্ভুত এই হোলি খেলা হয় বেনারসে। পূর্ণিমার বদলে, রংভরী একাদশীর দিন বেনারসের হরিশচন্দ্র ঘাটে মহাশ্মশাননাথ আরতির পর শিবের ভক্তরা এই হোলি খেলেন। তবে এখানে কোনও রং ব্যবহৃত হয় না। এই হোলির রং ধূসর কারণ এটি চিতার ছাই, ভস্ম দিয়ে খেলা হয়। 

ইয়াওসাং: মণিপুরে ৫ দিন ধরে টানা এই উৎসব পালিত হয়। কৃষ্ণের বিভিন্ন অবতারের পুজো করা হয় এই সময়। চলে সংকীর্তন। উৎসবের শেষ দিন বাংলা বা ভারতের অন্যান্য প্রান্তের হোলিকা দহনের মতো এখানে ইয়াওসাং মেইথাবা জ্বালানো হয় দুষ্টের দমন করে কৃষ্ণ যে শিষ্টের পালন করেছিলেন সেটা বোঝাতে। 

দোলা: ওড়িশায় পালিত হয় এটি। ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলে এই উৎসব। মূলত কৃষ্ণকে উৎসর্গ করে এই উৎসব পালিত হয়। কৃষ্ণের মূর্তি রথে বসিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। ওড়ানো হয় আবির। 

ফাগুনওয়া: এটি বিহারে উদ্‌যাপিত হয়। লোকসঙ্গীত গাওয়া বা বাজানো হয়। সঙ্গে চলে ঠান্ডাই এবং গুজিয়া খাওয়া। 

ফুলের হোলি: মথুরা, বৃন্দাবনে ফুলের পাপড়ি, ফুল দিয়ে হোলি খেলা হয়। সঙ্গে থাকে ফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি অরগ্যানিক আবির। গোকুলের এই দোলকে ব্রজের দোল বলা হয়ে থাকে। 

লাঠমার হোলি: দোলের ৪-৫ দিন আগে উত্তর প্রদেশের মথুরার কিছ জায়গায় এই হোলি খেলা হয়। এখানে লাঠির ব্যবহার করা হয় রঙের পাশাপাশি। কৃষ্ণ রাধার সঙ্গে এই সময় দেখা করতে আসতেন বলে মনে করা হয়, সেই সময় গোপিনীরা এভাবেই বাঁশ দিয়ে তাঁকে ভয় দেখিয়ে তাড়াত। সেটারই নকল করে এখনও এই ধারা প্রচলিত আছে। 

রাজকীয় হোলি: উদয়পুরের রাজপ্রাসাদে এই রাজকীয় দোল পালিত হয়। চলে লোকনৃত্য। আগুন জ্বালিয়ে তার পাশে, ঘুরে ঘুরে এই নাচ করা হয়। হোলিকা দহনের আরও এক রূপ এটি। এরপর রাজ পরিবারের সদস্যরা উঠ, হাতির পিঠে চড়ে শোভাযাত্রা করেন। পরদিন স্থানীয় এবং পর্যটকরা রঙের খেলায় মেতে ওঠেন। 

শান্তিনিকেতনের দোল: রবি ঠাকুরের গান, পলাশ ফুল এবং আবিরের রঙে রঙে রেঙে ওঠে শান্তিনিকেতনের আকাশ বাতাস। বাংলায় হোলিকে বলা হয় দোলযাত্রা। আগের দিন চাঁচর বা হোলিকা দহনের রীতি রয়েছে। 

সাংলা হোলি: হিমাচলে এই হোলি খেলা হয়ে থাকে। স্থানীয় মদ, গান, রাস্তায় নাটক এবং নাচের মাধ্যমে পালন করা হয় এই হোলি। 

হল্লা মহল্লা: শিখদের নিহাং গোষ্ঠীরা মূলত এই হোলি খেলেন। অস্ত্রের খেলা দেখানো হয়। তারপর চলে আবির বা রং নিয়ে খেলা। 

হাতির উৎসব: জয়পুরে হোলির সময় চলে এই উৎসব। হাতি, পালকি, রথের এক রঙিন শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় ভারতের গোলাপি শহরে এই সময়।