ফিটনেস নিয়ে সচেতন মানুষের কাছে প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ হাঁটা যেন এক অলিখিত নিয়ম। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই লক্ষ্য পূরণ করলেই দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু সাম্প্রতিক মতামত ও গবেষণা বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়, বরং অনেকটাই বিভ্রান্তিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০,০০০ স্টেপ হাঁটা অবশ্যই শরীরের জন্য ভাল। এতে হার্ট সুস্থ থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সারাদিন শরীর সক্রিয় থাকে। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু এই একটি নিয়ম মেনে চললেই ফল মিলবে, এমনটা ভাবা ভুল।
আসলে ১০,০০০ স্টেপের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে আসেনি। জাপানে বহু বছর আগে একটি পেডোমিটার বাজারে আনার সময় এই সংখ্যাটি জনপ্রিয় করা হয়েছিল। পরে তা ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু ওজন কমানোর সঙ্গে এর সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো ক্যালোরি ডেফিসিট অর্থাৎ আপনি দিনে যত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন, তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি খরচ করতে হবে। শুধু হাঁটলে অনেক সময় এই ঘাটতি তৈরি হয় না, বিশেষ করে যদি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রিত না থাকে।
এছাড়াও, হাঁটার গতি বা ইনটেনসিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে হাঁটার বদলে দ্রুত হাঁটা, জগিং বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম (যেমন এইচআইআইটি) করলে শরীর বেশি ক্যালোরি পোড়ায়। ফলে একই সময়ে বেশি ফল পাওয়া যায়।
আরেকটি বড় বিষয় হল স্ট্রেংথ ট্রেনিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি বৃদ্ধি পায়। এতে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে এবং বিশ্রাম অবস্থাতেও ক্যালোরি খরচ হয়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ স্টেপ হাঁটলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ উপকার পাওয়া যায়। এর বেশি হাঁটলে অতিরিক্ত সুবিধা মিললেও, তা খুব বেশি নয়, বিশেষ করে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, ১০,০০০ স্টেপ হাঁটা একটি ভাল অভ্যাস, কিন্তু ওজন কমানোর একমাত্র উপায় নয়। বরং সঠিক ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখা-এই চারটির সমন্বয়েই আসে আসল ফল। তাই শুধুমাত্র স্টেপ গোনার চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হওয়া উচিত ফিটনেসের আসল লক্ষ্য।















