আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেয়ের বিয়ের আনন্দ মুহূর্ত পরিণত হল চরম শোকে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন ষাটোর্ধ্ব মহিলা। মৃতার নাম সুস্মিতা দাস। বয়স ৬১ বছর। নিজের মেয়ের বিবাহের মত আনন্দ অনুষ্ঠান কীভাবে শোকের ছায়ায় ঢেকে যেতে পারে, এই ঘটনা তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ। মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই এমন অকালপ্রয়াণে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ ফেব্রুয়ারি। কলকাতার সেন্ট পল ক্যাথেড্রাল চার্চের প্যারিশ হলে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুস্মিতা। মেয়ের বিয়ের ‘গায়ে হলুদ’ অনুষ্ঠানের সময় আচমকাই দুর্ঘটনাবশত তাঁর গায়ে আগুন লেগে যায়। গুরুতরভাবে দগ্ধ হন সুস্মিতা। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কারণে সুস্মিতাকে এম আর বাঙ্গুর বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সুস্মিতারর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছিল। চিকিৎসকের উপস্থিতিতে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত এবং এর জন্য কোনও ব্যক্তি দায়ী নয়। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগও করেননি তিনি। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন সুস্মিতা। শারীরিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতিও হয়েছিল। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে, দীর্ঘ চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পৌনে ৩টে নাগাদ তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় গলগ্ৰিন থানায়। জানানো হয় মৃত্যু কারণও। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহের সুরতহাল (ইনকোয়েস্ট) ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে। প্রাথমিক তদন্তে কোনও রকম অপরাধমূলক যোগসাজশ বা রহস্যজনক দিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট এলেই গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।