গোপাল সাহা

রাজ্যের পালাবদলের পরে দিকে দিকে শান্তি ও স্বস্তির ছায়া। এরই মাঝে কলকাতার বুকে যেন এক অন্য ছবির সাক্ষী থাকল বিধাননগর বিধানসভার সল্টলেক। প্রায় ২০০ জন টোটো ও অটোচালক একসঙ্গে পৌঁছে গেলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী ও বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট চিকিৎসক এবং বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল নগদ ১ লক্ষ টাকা। কী কারণে বিধায়কের এতগুলি টাকা তুলে দিলেন চালকরা?

তাঁদের দাবি, এতদিন গাড়ি রাস্তায় চালাতে গেলে প্রতিদিনই ‘তোলা’ দিতে হত। প্রতি টোটো থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি অটো থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। দিতে হতো পূর্বতন শাসকদল তৃণমূলকে। না হলে গাড়ি চালানো যেত না। চালকদের কথায়, “গত কয়েকদিন কেউ আর টাকা তুলতে আসেনি। তাই আমরা ভাবলাম, এই টাকা এমন একজন মানুষের হাতে তুলে দিই, যিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।” 

ঘটনার পর বিধায়ক শারদ্বত তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে আর কাউকে এই ধরনের টাকা দিতে হবে না। বরং তিনি চালকদের পরামর্শ দেন, এই টাকা দিয়ে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করতে এবং প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যেই অসহায়দের সাহায্য করতে। জানা গিয়েছে, তোলা আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। অটো ও টোটো চালকদের কথা অনুযায়ী, “পূর্বে অনেকবার এ নিয়ে অভিযোগ জমা করা হয়েছিল কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। সরকার বদল হতেই বিধায়কের সহযোগিতায় আমরা শান্তি পেলাম। সুস্থভাবে আমরা গাড়িটা চালাতে পারব।”

ঘটনাটি ঘিরে এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। অনেকেই বলছেন, “এ শুধু টাকা ফেরানোর ঘটনা নয়, ভয়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক।” সল্টলেকের এক বাসিন্দার কথায়, “এমন দৃশ্য কলকাতায় সত্যিই দেখা যাবে, কখনও ভাবিনি।” 

এই বিষয় প্রশ্ন করা হলে আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রতিটি টোটো এবং অটো থেকে ৫০-১০০ টাকা করে তোলাবাজি চলতো। যা সমাজের কুকর্মে বা অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হত তৃণমূলের নেতৃত্বে। যার মাথায় ছিল মন্ত্রী, বিধায়ক-সহ পৌরপিতা, পৌরমাতা সকলে। সঙ্গে থাকত এলাকার কেষ্ট বিষ্টুরা। সুজিত বসু গ্রেপ্তার হওয়ার পরে বাকিরা সকলে পলাতক। আমি সেই টাকাটাকে তাদের মধ্যেই একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি, যাতে সকলের উন্নয়নের কাজে লাগে। গঠন করতে বলেছি একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তাঁদের কোনও সমস্যা বা চিকিৎসাজনিত কারণে ব্যবহার করা যায় সেই ব্যবস্থা করি। আজ থেকে আর কাউকে তোলাবাজির টাকা দিতে হবে না। আমি কোনও ভাবেই কোনও রকম তোলাবাজি বরদাস্ত করব না। আশা করব এখন থেকে অন্য সকলেও এই পথ ধরে সমাজের পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন।”