আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলে বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা। বিধায়কদের কাছে আজই মূলত, ২৬-এর ভোট জিতে, বিধানসভায় বলার প্রথম সুযোগ। তারমধ্যে, জীবনে বিধায়ক হিসেবে আজই প্রথম বলতে উঠলেন কুণাল ঘোষ। সময় পেয়ছিলেন ২০ মিনিট, চলল প্রায় ২২ মিনিট পর্যন্ত।

 

কিন্তু ওই সময়কালে বিধানসভা জুড়ে স্লোগান, চিৎকার, হইহল্লা এমন পর্যায়ে গেল, কুণাল নিজেই একাধিকবার পরিস্থিতি সামলানোর দাবি জানিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক বাধ্য ছাত্রের মতো স্পিকারের উদ্দেশে বললেন, 'ও স্যার...।' বললেন, 'ও স্যার আমাকে যদি ডিস্টার্ব করে, আমি কিন্তু...।' কাউকে বললেন, 'বাড়িতে গিয়ে গজগজ করুন।' কাউকে বললেন, 'ওকে একটু বলুন, গপ্পো করছে।' কাউকে বললেন, প্রয়োজনে 'কোর্টে আসুন'। মাঝে পরিস্থিতি দেখে আবার বিজেপি বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে দাঁড়িয়ে সব পক্ষকেই বলতে হল, সৌজন্য দেখাতে। 

কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় আগেই জানিয়েছিলেন, রাজ্যপালের বক্তব্যের আলোচনায়, কোন কোন বিষয়ের উপর তিনই আলোকপাত করতে চান। কিন্তু সেসব পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই, একেবারে হইহল্লা চলল বিধানসভা জুড়ে। কুণাল যতই সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, হাসিমুখে বক্তব্য শুরু করতে যান, ততই তীব্র হয় 'চোর' স্লোগান। যদিও একেবারে শুরু থেকেই, কথার প্যাঁচ তিনি ছড়াতে থাকেন প্রতি লাইনে। 'চোর' স্লোগান শুনে, দুম করে টেনে আনেন নারদা প্রসঙ্গ। বলেন, 'নারদার ভিডিও ফুটেজের নামের তালিকা বলতে হয়। বলবেন তো? আপনাদের পার্টি অফিস থেকে দেখিয়েছিল।' 

আবার কয়েক সেকেন্ড পরে বলে বসেন, 'নামের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। বন্ধুরা ভাল বলবেন, শত্রুরা খারাপ বলবেন।  ইউ কান্ট ইগনোর। নামটা মনে রাখবেন কুণাল কুমার ঘোষ।' কখনও হইচইয়ের মাঝে বলেন, 'বেশ করেছি।' কখনও তুলে আনলেন 'ওয়াশিং মেশিন' প্রসঙ্গ। তাঁর পাশে দাঁড়াতে উঠে দাঁড়ালেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেবও। 

তবে প্রথম বক্তব্যে কুণাল ঘোষ আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন, 'বিরোধিতা করার জন্য কোনও বিরোধিতা করব না।' নতুন সরকারের উদ্দেশে বলেন, 'তাদের অধিকার রয়েছে কিছুদিন সময় পাওয়ার। আমরা নিশ্চয় মানুষের ভোটে জিতে এসেছি।। গঠনমূলক বিরোধিতা হবে, কিন্তু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না।' বক্তব্যে, তিনই রাজ্যপালের বক্তব্যের বেশকিছু কথা বললেন, তবে নিজের কথা মনে করালেন, করলেন গঠনমূলক আলোচনা। বললেন মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তুললেন ত্রিপুরা, বিএসএফ, অমিত শাহের প্রসঙ্গ। নিজের ইমানদারি নিয়েও যেন সাফ বার্তা দিয়ে দিলেন বিধানসভায় গিয়ে, বললেন, 'আমরা হেরে যেতে পারি। আমি বেইমান নই। আমরা বেইমান নই।' 

যদিও কখনও কখনও যেন 'খানিক ঝগড়া'ও করলেন। কথায় কথায় কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না 'টিম-ঋতব্রত'কে। বললেন, 'স্পিকার ব্যবস্থা করে রেখছেন, আসল বিরোধী বেঞ্চ থেকে কথা হলে, কথা হবে, অনৈতিকভাবে, মেরুদণ্ডহীন বিরোধী দলনেতাকে বলতে দিলে, বলতে দেওয়া হবে।' টিম ঋতব্রতদের 'বিজেপি স্পনসর্ড'ও বললেন।

 

কথার প্যাঁচে মনে করালেন মহাভারত। বললেন, 'পাণ্ডবরাও পাঁচ ছিল, কৌরবরা কিন্তু একশ থেকেও বাঁচেনি।' অন্যদিকে মেসি-কাণ্ডের দিনে মাঠে থাকার জন্য, কেন তাঁর বাড়িতে সিআইডি গেল না, তা নিয়েও খানিক আলগা টিপ্পনি দিলেন। নাম না করে হালকা খোঁচা দিলেন ফিরহাদকেও। 

 মোটের উপর, গোটা বক্তব্যে সরকারকে যেমন সময় দেওয়ার কথা বললেন, ভাল কাজ করার কথা বললেন, হকার উচ্ছেদ নিয়ে কথা বললেন, স্বাস্থ্য খাতে আধুনিকীকরণ নিয়ে কথা বললেন, তেমনই কুণাল যেন হইহল্লার মাঝে দাঁড়িয়ে, স্লোগান-বিরোধিতার মাঝে দাঁড়িয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বোঝাতে চাইলেন, তাঁকে ইগনোর করা মুশকিলই। একেবারে শেষে, ২০ মিনিটের টাইমলাইন পেরিয়ে বলেই বসলেন, 'আপনারা গামী দিনেও, বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে, আমাকে ভয় পেয়ে, গুরুত্ব দিয়ে চলুন...।'