আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগেই জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবেন বড় বার্তা। সেই মতো, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, এবং ৯১ পাতার একটি 'চিঠি'র প্রসঙ্গ তুলে আনেন। কয়েক মিনিটের ওই বক্তব্যে ঋতব্রত ব্যানার্জি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, যেভাবে জেলবন্দি সাংসদের চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন ঋতব্রত, তাতে তির কুণালের দিকে, তা স্পষ্ট বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
শুরুতেই একেবারে হেঁয়ালি না করেই দুই শিবিরের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা এনে, সরাসরি ৯১ পাতার পুরনো চিঠির কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, '৯১ পাতার চিঠি পড়ে মনে হল, তা প্রকাশ্যে আনা দরকার।' তারপরেই বলেন, 'সম্প্রতি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া একজন বেইমান বেইমান বলছেন, ঘটনাচক্রে সেরকম একজন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন, সাংসদ থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হন এবং জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ৯১ পাতার চিঠি লিখেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিবিআই ডিরেক্টরকে। ৯১ পাতার চিঠিতে উল্লেখিত, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পুলিশ যদি জেলের মধ্যে কিছু করে, তাহলে ৯১ পাতার চিঠিকেই শেষ বয়ান বলে ধরে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, জেলে বসে মৃত্যুর আশঙ্কায় থাকা এক বন্দির শেষ বয়ান।'
এই মুহূর্তে, মমতা শিবির থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া, দলের ভিতরের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আওয়াজ তোলা ঋতব্রতদের কালীঘাট শিবির বারেবারে 'বেইমান' বলে আক্রমণ শানিয়েছে। এবার ঋতব্রত পুরনো চিঠি প্রসঙ্গ তুলে কার্যত কুণালকেই একহাত নিতে চাইলেন নাম না করেই। তিনি বলেন, 'এই ৯১ পাতার দলিল, একটা দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল তখনই। এখন ভাবতে হয়, দলের সাংসদ দলের বিরুদ্ধে কি বেইমানি করেছিলেন তখন? যা লিখেছিলেন, যাঁদের অ্যাড্রেস করেছিলেন, ওই দলিলে যা আছে, সেটা কি তাহলে বেইমানি।' ওই চিঠিতে কাকে নিয়ে, কাক সম্পর্কে কী লেখা হয়েছিল? সেই প্রসঙ্গও তুলে আনেন ঋতব্রত। তারপরেই বলেন, 'আমি সেই ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে অনুরোধ করব, দিদির এখন অখণ্ড অবসর। ৯১ পাতার চিঠি, একদিনে না হলেও, দু'দিনে পড়া হয়ে যাবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, দিদিকে অনুরোধ করব আমি চিঠিটা চেয়ে নিন। ভাল করে পড়ুন। বুঝতে পারবেন, আপনার দল তুলে দেওয়ার সলতে কবে পাকানো শুরু হয়েছিল, কে শুরু করেছিল। বেইমানির ইতিহাস অনুমান করতে পারবেন। ১৫ দিনের মধ্যে যদি না পৌঁছয়, আমরা কুরিয়ার করে দিদিকে পাঠিয়ে দেব।'
ঋতব্রত সাফ জানান, 'এই চিঠিতে লেখা রয়েছে, একজন রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের পয়সায় চলেন, লেখা রয়েছে, গোটা ভারতের চিটফান্ডের সবথেকে বড় বেনিফিসিয়ারির নাম মমতা ব্যানার্জি।'















