আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাস কলকাতায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুল পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু। মঙ্গলবার সেই ঘটনায় উত্তাল বাঁশদ্রোনী এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন সকাল থেকেই স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত পড়ুয়ার বাবার।
জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম আয়ুষ কুমার নাথ। বছর আটের ওই পড়ুয়া বাঁশদ্রোণীর একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্র। গত ১৩ মে বাকিদিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল ওই পড়ুয়া। স্কুলে গিয়েই অসুস্থ বোধ করছিল সে। এ কথা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানালেও তাঁরা কর্ণপাত করেননি। সেই অবস্থাতেই তাকে ৬টা পিরিয়ড স্কুলে বসিয়ে রাখা হয়। বাড়িতে কোনও খবর দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ভারী ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে সে গড়িয়ে পড়ে যায়। জোরে ধাক্কা খায় দেওয়ালে। তাতেই মাথায় চোট লাগে তার। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ছাত্র মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমস্ত অভিভাবক। স্কুলের সামনেই রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত ছাত্রের বাবা।
পড়ুয়ার বাবার অভিযোগ, ছুটির সময় তিনি যখন ছেলেকে আনতে যান, তখন স্টাফরুম থেকে তাঁকে ফোন করে ভেতরে আসতে বলা হয়। তিনি গিয়ে দেখেন, তাঁর ছেলে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। তার গোটা শরীর জলে ভেজা। শিক্ষিকার নানা ভাবে চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করছে। এরপর তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি। তারপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে কোমায় চলে যায় আয়ুষ। ১২ দিন কোমায় থাকার পর গত রবিবার মৃত্যু হয় আয়ুষের। মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
সন্তানকে হারিয়ে কার্যত বিধ্বস্ত আয়ুষের মা। তিনি বলেন, "স্কুলে গিয়েই অসুস্থ বোধ করছিল আমার ছেলে। সে কথা ও স্কুলে গিয়ে জানিয়েছিল। ওর বন্ধুরাই আমাদের এ কথা বলেছে। স্কুল আমাদের কিছু বলছেনা। আমরা যাতে কিছুই না বুঝতে পারি, তার জন্য ওকে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়।"
পুলিশ সূত্রে খবর, ছেলেটি বিগত বহুদিন ধরেই মাথার অসুস্থতার কারণে ভুগছিল। মাঝেমধ্যেই মাথা ব্যথা হত এবং স্কুলে আসতে পারত না বলে স্কুল সূত্রে খবর। ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এমআরআই করা হলে জানা যায়,ওর মাথায় একটি খুবই গুরুতর টিউমার রয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে মাথা ব্যথার কারণে স্কুলে আসছিল না আয়ুষ। একটু সুস্থ বোধ করায় ১৩ তারিখে স্কুলে এলে এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটে। তৃতীয় বর্ষের এই আয়ুষ মাথা ঘুরে পড়ে যায় ক্লাস চলাকালীন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাকে চিকিৎসা শুরু করা হয়। গত ২৪ তারিখ অর্থাৎ রবিবার ছাত্রটির মৃত্যু হয়। তারই ভিত্তিতে পরিবার লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর করেন স্কুলের বিরুদ্ধে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়।
তবে পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ছাত্রের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাথায় তেমন কোন চোট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে একটি বড় টিউমারের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই কারণেই মৃত্যু বলে অনুমান চিকিৎসকদের। পড়ে গিয়ে মৃত্যুর নয় বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যদিও এখনও তদন্ত শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। স্কুলের সমস্ত জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কথা হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও। তাই কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।















