আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার সকালে হঠাৎই সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ত্রিপল খাটানো তাঁবুর ভেতরে গিয়ে বসে পড়েন তিনি। বলেন, 'আমি নিজে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছি। আমি আন্দোলনের ব্যথা বুঝি। আপনারা দিনের পর দিন এভাবে রাস্তায় বসে আছেন। আপনাদের কষ্টে আমি রাতে ঘুমোতে পারিনি'। দুদিন আগে নবান্নে বৈঠকে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। তারপরে এদিন একেবারে চিকিৎসকদের মধ্যে এসে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাই দিলেন তিনি। ডাক্তারদের বক্তব্যেও উঠে সেই কথা।
জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো এবং দেবাশিস হালদার জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এখানে আসাটাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে রাজি। বর্তমানে চিকিৎসকদের মধ্য়ে জেনারেল বডি মিটিং চলছে। তারপরেই তাঁদের তরফে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ধর্নামঞ্চে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগান ওঠে। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা আশ্বাস দেন, 'বিচার হবেই। ভরসা রাখুন। বলেন, জাস্টিস হবেই। আপনারা সিবিআইয়ের কাছে যান। সেখানে গিয়ে বলুন তিলোত্তমার কেসে বিচার চাই। আমি চাই দোষীদের তিন মাসের মধ্যে ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক সিবিআই।'
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি ইতিমধ্যেই কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিয়েছি। আরজি করেও রোগী কল্যাণ সমিতিতে বদল হয়েছে। এখন থেকে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষই রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হবেন'। এদিন ধর্নামঞ্চে এসে বারবার চিকিৎসকদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানান তিনি। বলেন, 'আপনারা কাজে ফিরুন। অনেক মানুষ অসুবিধার মুখে পড়ছেন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনাদের দাবিগুলো ভেবে দেখব। যে ঘটনা ঘটেছে তাতে যদি কেউ সত্যি দোষী হয় তারা শাস্তি পাবে। কেউ আমার বন্ধু না শত্রু নয়। আমি তাঁদের চিনিই না। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁরা এসেছেন। আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের প্রতি কোনও অবিচার হবে না'।
















