আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক ১২ বছরের নাবালিকার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় বাড়ির অদূরেই একটি পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, গতকাল শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ খাবার কিনতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সে। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে তার ভাসমান দেহ মেলে। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

দেহ উদ্ধারের খবর ছড়াতেই এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মাইকিং করতে হয়। এর মাঝেই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামের এক স্থানীয় যুবককে ধরে ব্যাপক গণপিটুনি দেয় জনতা। পুলিশ গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাটির জন্য পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যজুড়ে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনা এবং বারুইপুরের এই ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এর আগেও ভগবানপুর, পটাসপুর, কোচবিহার, দুর্গাপুর, দিনহাটা ও পানিহাটি সহ অনেক জায়গায় মেয়েরা নির্যাতিতা হয়েছে। আজকেও বারুইপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কারণ মানুষ সহ্য করতে করতে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।"

মমতা আরও অভিযোগ করেন যে, তিনি নির্যাতিতা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একাই যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করে তাঁকে একপ্রকার 'নজরবন্দি' বা 'হাউস অ্যারেস্ট' করে রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও  ১৪৪ ধারা না থাকা সত্ত্বেও কেন সিআরপিএফ, আরপিএফ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ দিয়ে তাঁর বাড়ির রাস্তা ঘিরে রুট মার্চ করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও তাঁর দলের বেলায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরিশেষে তিনি জানান যে, নিজে উপস্থিত হতে না পারলেও নির্যাতিতা পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর কথা হয়েছে এবং তিনি তাঁদের পাশে আছেন।