আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি কেলেঙ্কারি ও তোলাবাজি মামলার তদন্তে এবার গতি বাড়াল বেঙ্গল এসটিএফ (STF)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির আপ্ত-সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। কিন্তু সুমিতবাবু এখনও অধরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁর অবস্থান জানতে এবং তদন্তের জট কাটাতে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করলেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরা করার সময়ই প্রথম সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে। তার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন সুমিতবাবু। তাঁর খোঁজে পুলিশ যেমন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে, তেমনই গভীর রাতে অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি এবং সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও হানা দিয়েছেন আধিকারিকরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি।
এই নিখোঁজ রহস্যের সূত্র খুঁজতেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিশানা করেছে এসটিএফ। সম্প্রতি তোলাবাজি, হুমকি ও প্রতারণার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে দেবরাজকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাগুইআটি থানায় দেবরাজকে প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে জেরা করেন এসটিএফ আধিকারিকরা। রাত সাড়ে দশটা থেকে শুরু হওয়া এই জিজ্ঞাসাবাদে মূলত জানার চেষ্টা করা হয় যে সুমিত রায় বর্তমানে কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে দেবরাজের শেষ কবে কথা হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না।
তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর দেবরাজের মোবাইল থেকে একাধিক চ্যাট ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়েছে। দেবরাজের কাছ থেকে যে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়েছে, তার কল রেকর্ডস ও বেশ কিছু সন্দেহজনক নম্বর ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির টাকার কোনও অংশ সুমিতের কাছে পৌঁছত কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ পায়নি যা দিয়ে তোলাবাজির টাকার সঙ্গে সুমিতের সরাসরি যোগ নিশ্চিত করা যায়। পুরো বিষয়টিই এখন যাচাইয়ের স্তরে রয়েছে।
সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করার পর সুমিত রায়ের নাম জড়ানো, তাঁর বেপাত্তা হয়ে যাওয়া এবং এখন দেবরাজ চক্রবর্তীকে জেরা—সব মিলিয়ে এই জমি কেলেঙ্কারি মামলাটি দিন দিন আরও জটিল আকার নিচ্ছে। এসটিএফ কর্তাদের আশা, দেবরাজকে আরও জেরা করলে এমন কিছু গোপন তথ্য বা সূত্র মিলতে পারে, যা সুমিত রায়ের সঠিক অবস্থান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।















