আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি জালিয়াতি মামলার তদন্তের গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার সোনা পাপ্পু জমি জালিয়াতি মামলায় রাজ্যের ৯টি জাগায় তল্লাশি চালায় ইডি। শান্তনু সিনহা ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলির বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। ইডি সূত্রে খবর, শনিবার রুহুল আমিন আলির মার্কুইজ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে আড়াই কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। যার বাজারদর প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও, রুহুল আলির দু’টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই দু’টি মোবাইলের দিকেই নজরে ইডির। 

ইডি সূত্রে খবর, মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে একাধিক তথ্য মিলেছে জমি জালিয়াতির সিন্ডিকেট চক্রের। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং  জয় কামদারের সঙ্গে একাধিক চ্যাট পাওয়া গিয়েছে এমনটাই সূত্রে খবর। যে চ্যাট পাওয়া গিয়েছে সেই চ্যাট খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চ্যাট হিস্ট্রি এই জমি জালিয়াতি মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল এভিডেন্স। এছাড়াও সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে ইডি। কার কার সঙ্গে লেনদেন হয়েছিল কবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে সেই সমস্ত বিষয়ে খতিয়ে দেখছে।

জমি জালিয়াতি মামলায় ইডি-র নজরে রয়েছে ২৪০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ইডির দাবি, জমির টাকা সরাতে ‘ক্যালকাটা গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’র নামে একটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। কালো টাকা সাদা করতেই এই এডুকেশন সোসাইটি মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতো বলে দাবি সূত্রের। ক্যালকাটা গুজরাট এডুকেশন সোসাইটির ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় বেশ কয়েকটি একাউন্ট রয়েছে বলে দাবি। জয় কামদার ওই সোসাইটি সম্পাদক হওয়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। 

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অ্যাকাউন্টে ৪৬ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। প্রায় ২৪০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে দাবি ইডি-র। এছাড়াও শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল সোসাইটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যা ব্যবহার করে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছিল। ওই টাকা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে গিয়েছে তাদের কার্যকলাও সন্দেহজনক বলে তদন্ত সময় উঠে এসেছে, দাবি ইডি-র। সমস্ত অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে। এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে টাকা লেনদেন হয়েছে সেই টাকা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি, হুমকি দিয়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি ইডি-র।

প্রসঙ্গত, ১৪ মে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে ইডি। সোনা পাপ্পু এবং জমি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সহযোগিতা করেননি বলে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। তারপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জমি জালিয়াতি মামলায় ইডি-র হাতে গত ১৮ মে গ্রেপ্তার হন সোনা পাপ্পু। তদন্তে শান্তনু-ঘনিষ্ঠ ১২ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা অফিসারের নাম আগেই পেয়েছিল ইডি। তাঁদের তলব করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আধিকারিকদের শান্তনু পোস্টিং দিয়েছিলেন বলে দাবি ইডি-র। এই অফিসারদের কাজে লাগিয়ে একাধিক জমি কম দামে জয় কমদারকে পাইয়ে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।