আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৩ জুলাই এবং ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উদ্যোগে এবং লোকসভার PRIDE-এর সহযোগিতায় ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যদের জন্য দু’দিনের ‘লেজিসলেটিভ বিজনেস’ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনী অধিবেশন কর্মসূচি চলছে নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে। বেলেঘাটার বিধায়ক, কুণাল ঘোষও অন্যান্য বিধায়কদের মতোই হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু কর্মসূচির প্রথম কিছুক্ষণেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, কুণালকে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ওয়াক আউট নিয়ে, জল্পনা শুরু হয়। 

তবে জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন কুণাল নিজেই। কী বলছেন বেলেঘাটার বিধায়ক? জানান, 'এখানে আসাটা আমার কর্তব্য ছিল। কিন্তু এখানে সবার কথা শুনব কিনা, সেটা আমার সিদ্ধান্ত।' কুণাল বলেন, 'লোকসভার অধ্যক্ষ তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে চাইছে এমন একটা গ্রুপকে এন্টারটেন্ট করলেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ এমন অনৈতিকভাবে বিরোধী দল সাজাতে গেলেন, আমাকে  বলতেও দিলেন না অনৈতিকভাবে, তাঁরা পরিষদীয়, সংসদীয় বিষয় নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করবেন, আর বসে বসে শুনব, এটা হতে পারে না। আমার আসা উচিৎ ছিল, কারণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে বিধানসভার পক্ষ থেকে।'

সঙ্গেই তিনি বলেন, 'লোকসভা এবং বিধানসভার স্পিকার পদগুলিও যেভাবে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে, তাতেও আবার প্রভাবিত করছে কিনা, আমাদের মনে দ্বন্দ্ব আছে।' 

কুণাল বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও লিখেছেন, 'আমার কর্তব্য ছিল আজ বিধানসভার অধ্যক্ষ আয়োজিত বিধায়কদের কর্মশালায় উপস্থিত থাকা। বন্দেমাতরম, জনগণমন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন পর্যন্ত ছিলাম। আমি লোকসভা, বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। 
  কিন্তু এটা আমার সিদ্ধান্ত যে আমি কিছু ব্যক্তির বক্তব্য শুনব কি না। আমি ঠিক করলাম, শুনব না। এটা আমার সিদ্ধান্ত, বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে বেরিয়ে এসেছি। 
 কারণ, লোকসভার অধ্যক্ষ সম্মানীয়। কিন্তু তিনি তৃণমূলের দল ভাঙানোর চেষ্টার সাংসদদের বরখাস্ত করার বদলে ছাড় দিচ্ছেন। রাজ্যের অধ্যক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু তিনি নিরপেক্ষ কাজ করছেন বলে অনুভব করছি না। আগের দিন আমাকে অন্যায়ভাবে বলতে দেওয়া হয়নি।  আমি ওঁদের মুখে নীতিকথা  শুনব না।'

কুণাল আরও লেখেন, 'আমার যদি পরিষদীয় রাজনীতির খুঁটিনাটি শেখার থাকে, আমি প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শিখছি। 1990 থেকে বিধানসভা কভার করছি রিপোর্টার হিসেবে। স্পিকার হালিমসাহেবকে  দীর্ঘকাল কাছ থেকে দেখেছি। পরে পার্লামেন্ট কভার করেছি সাংবাদিক হিসেবে। রাজ্যসভার সদস্য ছিলাম। ফলে কিছু ধারণা আছে। বাকি শেখার জন্য আজ ওখানে বসে থাকার দরকার ছিল বলে মনে করিনি।'