আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার রাতেই প্রয়াত হয়েছেন ময়দানের বটবৃক্ষ টুটু বসু। বুধবার সকালেই তার দেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। সেখানে তার ভক্তরা তাকে শ্রদ্ধা জানান। ছিলেন তার পরিবারের মানুষরাও। টুটু বসুর নাতি অরিঞ্জয় বসু বলেন, আগের দিন দুপুরে তিনি লুচি-পরোটে খেয়েছিলেন। বিকেলে তাকে ম্যাসাজ দেওয়া হয়। সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ তাকে দ্বিতীয় ম্যাসাজ দেওয়ার সময়ই তার পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাতেই ফোন করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 


মৃত্যুকালে টুটু বসুর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন টুটু বসু। রেখে গেলেন দুই পুত্র সৃঞ্জয় বসু এবং সৌমিক বসুকে। বুধবার সকাল আটটায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বাসভবনে। সেখান থেকে খিদিরপুর ক্লাব, ভবানীপুর ক্লাব হয়ে মোহনবাগান ক্লাবে। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মোহনবাগানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হবে। দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাবেই থাকবে মরদেহ। উপস্থিত থাকবেন প্রাক্তন ফুটবলাররা। সমর্থকদের প্রিয় ছিলেন টুটু বসু। তাঁর প্রয়াণের খবর শুনে রাতেই সমর্থকের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে যায়। 


ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রথম থেকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। কড়া পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসকরা। কিন্তু রাতের দিকে অবস্থার অবনতি ঘটে। ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মাঝেমধ্যে শয্যাশায়ীও হয়ে পড়েন। কিন্তু তারমধ্যেও ছিল দাপট। গতবছর মোহনবাগানের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা নেন। শেষদিকে বাইরে খুব বেশি বেরোতে না পারলেও, হুঙ্কারেই বাজিমাত করতেন। মোহনবাগান সাপোর্টারদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। রসবোধ ছিল অসামান্য। যা দিয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতি জয় করতেন। ক্লাবের দুঃসময় একাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। একসময় মোহনবাগানের 'মুশকিল আশান' ছিলেন টুটু বসু। 

 

&t=1s
কলকাতা ময়দানের প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিকদের মতে, টুটু বসুর মৃত্যু শুধু একজন প্রশাসকের প্রয়াণ নয়, বরং এক যুগের অবসান। তাঁর হাত ধরেই মোহনবাগান বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে টুটু বসুর নাম এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।