আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভা সাংসদ জয়া বচ্চন বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর বিরোধী শিবিরের সমীকরণ বদল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই সাক্ষাৎ পর্ব সম্পন্ন হল। কিছুদিন আগেই সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা কিরণময় নন্দ কলকাতায় এসে তৃণমূলের এই হারের জন্য সরাসরি মমতা ব্যানার্জিকে  দায়ী করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে মানুষ আর তাঁকে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাননি। 

তাঁর এই মন্তব্যের পর বিরোধী 'ইন্ডি' জোটের এই দুই শরিক দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, জয়া বচ্চনের এই সফর তা ধামাচাপা দেওয়ার একটা চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অবশ্য এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্বকে একেবারেই লঘু করে দেখিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন যে, মমতা ব্যানার্জি ও জয়া বচ্চনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুমধুর ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি নেহাতই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবও কলকাতায় এসে মমতার সঙ্গে দেখা করে সংহতি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সপার একাংশের প্রকাশ্য সমালোচনা সত্ত্বেও এই দুই দলের মধ্যে যোগাযোগের রাস্তা যে এখনও খোলা রয়েছে, জয়া বচ্চনের এই সফর তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে এই সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে চলা বর্তমান কোন্দলকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেত্রী তথা এ রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এক হাত নিয়েছেন শাসক দলকে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, যে কেউ মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে আসতেই পারেন, এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এর সাথে বাকস্বাধীনতা বা চলাফেরার স্বাধীনতার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের আদৌ কোনও  অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পলের দাবি, তৃণমূল এখন অজস্র টুকরোয় ভেঙে গেছে এবং রাজ্য বা দিল্লিতে তাদের কতগুলো দল উপদল তৈরি হয়েছে, তা গোনাও অসম্ভব। 

বিধানসভার ভেতরেও এই দলের অবস্থান ঠিক কোথায়, তা কেউ জানে না। তিনি টিপ্পনী কেটে বলেন যে, আসল তৃণমূল কারা, আর কারা টিম-বি বা টিম-সি—তা নিয়ে মানুষ চরম বিভ্রান্ত। তাই জয়া বচ্চন কার বাড়িতে গেলেন তা নিয়ে বিজেপির কোনও  মাথাব্যথা নেই, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই যেভাবে তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্ব ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চলছে, সেই আবহে জয়া-মমতা বৈঠককে নিছক ব্যক্তিগত বলে উড়িয়ে দিলেও, আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই কড়া নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।