সোহিনী চৌধুরী, ক্যালিফোর্নিয়া: কল্লোলিনী জুড়ে যেন প্রেমের মরশুম..আর কলকাতায় প্রেম বলতে প্রথমেই কী মনে পড়ে? স্রোতস্বিনী গঙ্গা আর বিশালাকার বিদ্যাসাগর সেতুর প্রেক্ষাপটে প্রিন্সেপ ঘাট। ঝাল মুড়ি বা ফুচকা খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখা। ধবধবে সাদা, রোমান ভাস্কর্যে তৈরি জেমস প্রিন্সেপ সাহেবের ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধের সামনে সবুজ ঘাসে বসে আড্ডা ও সেলফি। হ্যাঁ, এবার দুর্গাপুজোয় আগমনী সেই আমেজেই মণ্ডপ সাজাচ্ছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্রান্সিসকো বে-তে "আগমনী" দুর্গাপুজো আমাদের একটা ছোট্ট প্রয়াস। ২০১৭ সালে আমাদের যাত্রা শুরু। কলকাতার পাড়ার পুজোর আমেজটা আমরা এখানে বে এরিয়াতে বসে অনুভব করি। আমরা প্রবাসীরা দুর্গাপুজোর সময় কলকাতাকে বেশি করে মিস করি। সেই ছোটবেলার দুর্গাপুজোর দিনগুলোর স্মৃতি আকড়ে এই স্যান রামনেই একটা পাড়ার পুজোর আয়োজন করা। ধুনুচি নাচ, আরতি, সিঁদুর খেলা, সবকিছুই হয়। সঙ্গে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ, আবৃত্তির আসর বসে।  স্যান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া ট্রাইভ্যালি বাঙালিদের সংগঠনের নাম আগমনী। গত কয়েক বছরে আগমনীর সদস্যসংখ্যা অনেক বেড়েছে। সেই জন্য চাই বড় জায়গা, যাতে সবাই একসঙ্গে আনন্দ করতে পারে। তাই এবার ২০-২২ অক্টোবর স্যান রামন বিশপ ব়্যাঞ্চে আমাদের "আগমনী" পুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবারের থিম, "প্রেমের শহর কলকাতা"। পুজোর কদিন থাকবে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে প্রচুর খাওয়া-দাওয়ার স্টল, মার্চেন্ডাইজ স্টল। থাকছে বিশাল পার্কিং ব্যবস্থাও। সুদূর ক্যালিফোর্নিয়াতে কলকাতার স্বাদ পেতে সেই ম্যাডক্স স্কোয়ারের মতো থাকবে আড্ডা দেওয়ার জায়গা। ২০০৯ সারেগামাপা ফাইনালিস্ট উজ্জয়িনী মুখার্জি এবছর আসছে বে পাড়া কাঁপাতে। দেশ থেকে এতো দূরে থেকেও বাঙালিয়ানা বজায় রেখেছে আগমনী। সারা বছর ধরে আমাদের এই সংস্থা নানান সামাজিক এবং সমাজসেবার কাজ করে। তুরস্ক এবং সিরিয়ার ভূমিকম্প পীড়িতদের উদ্দেশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি আমরা। লড়ছি গ্রামবাংলার মানব পাচারের বিরুদ্ধেও। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে মিলে "আগমনী" পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে খুলেছে কিশলয় বিদ্যালয়।