আজকাল ওয়েবডেস্ক: শারদোৎসবের মরশুমে হকার উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। কিন্তু এই আশ্বাসের ফাঁদে পা দিয়ে হকারদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের রাস্তা থেকে সরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআই(এম) নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। হকার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "আপনাদের লড়াইয়ের মেজাজ দেখেই সরকার আপাতত পিছিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। তাই এই আশ্বাসে আন্দোলন থামিয়ে না দিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষায় রাস্তার লড়াই ও আইনি লড়াই—দুই-ই সমানে চালিয়ে যেতে হবে।"

বিকাশ রঞ্জনের এই সুরেই সুর মিলিয়ে উচ্ছেদ নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র দু-মাসের মধ্যে রাজ্য জুড়ে রেল স্টেশন সংলগ্ন হকার ও বস্তিবাসীদের ওপর নির্মমভাবে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। যাদবপুর, দমদম, হাবড়ার মতো একাধিক স্টেশনে হকারদের দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেলিম বলেন, "বুলডোজার চালুর এই নীতি আসলে এক পুরুষতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ত শক্তির বহিঃপ্রকাশ, যা কেবল আধিপত্য ও ক্ষমতার আস্ফালন দেখায়। দেশ চালাতে হবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, এভাবে বেআইনি উচ্ছেদ আমরা মানব না এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ জারি থাকবে।"

উচ্ছেদের এই মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে সেলিম মনে করিয়ে দেন, এই হকার ও বস্তিবাসীদের একটা বড় অংশই দেশভাগের শিকার। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ইউসিআরসি (UCRC) আন্দোলনের মাধ্যমে এই প্রান্তিক মানুষদের পুনর্বাসন দিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই হয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার রাতারাতি বুলডোজার এনে মানুষের রুটি-রুজি ও মাথার ছাদ দুই-ই কেড়ে নিচ্ছে, যার জেরে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, "ঝাড়গ্রাম থেকে দিল্লি পর্যন্ত এখন ঝালমুড়ি নিয়ে শুধু নাটক চলছে, তাকে বাংলার ব্র্যান্ড বানানো হচ্ছে, অথচ সেই মুড়ি বিক্রেতার জীবনই আজ বিপন্ন।"