আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে প্রথম দিনের ব্যস্ত সূচির মাঝেই জোহরান মামদানি সময় বের করলেন এক বিশেষ লাঞ্চ মিটিংয়ের জন্য। স্থান — জ্যাকসন হাইটসের জনপ্রিয় নেপালি রেস্তোরাঁ ‘লালিগুরাস বিস্ত্রো’, মেনুতে ছিল মোমো, চিলি চিকেন, আলু দম ও তিংমো। কিন্তু এই মধ্যাহ্নভোজ শুধু খাবারের জন্য নয় — এটি ছিল প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা।


মামদানির সঙ্গে টেবিলে ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ যিনি নিজেও একজন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক। দু’জনেই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট, এবং এই সাক্ষাৎকারের মূল বিষয় ছিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতরে “প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রয়োজন” এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বামঘেঁষা রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য।


‘গোথামিস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুরের এই বৈঠকে দুই নেতাই তাঁদের নীতিগত দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। মামদানি পরে X -এ লিখেছেন,
“মেয়র-ইলেক্ট হিসেবে ব্যস্ত প্রথম দিন— সকালবেলা সাক্ষাৎকার, ট্রানজিশন টিম ঘোষণা ও বৈঠক। কিন্তু দিনের সেরা মুহূর্ত ছিল আমার কংগ্রেসওমেন @AOC-এর সঙ্গে লালিগুরাস বিস্ত্রোতে দুপুরের খাবার।”


অন্যদিকে, ওকাসিও-কর্তেজও X-এ লিখেছেন, “জ্যাকসন হাইটসের সেরা মোমো খেতে খেতে আমাদের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে দেখা করার সম্মান পেয়েছি। শিশুসেবা থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া— নিউইয়র্ককে কর্মজীবী পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে। কাজ শুরু হোক!”


এই বক্তব্য মামদানির নিজের নির্বাচনী স্লোগানেরই প্রতিধ্বনি — “ধন্যবাদ, নিউইয়র্ক সিটি। আমরা একসঙ্গে ইতিহাস গড়েছি। এখন কাজ শুরু করা যাক।”


৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে শুধু প্রথম মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়রই নন, বরং শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সি মেয়র। তিনি প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া-কে পরাজিত করে ‘বিগ অ্যাপল’-এর নতুন মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।


তাঁর জয়কে অনেকেই দেখছেন এক ‘জেনারেশনাল শিফট’ হিসেবে— যেখানে তরুণ, বহুজাতিক ও শ্রমজীবী ভোটাররা জীবিকার সংকট ও ব্যয়বহুল জীবনযাপনের চাপ থেকে মুক্তির আশা খুঁজে পেয়েছেন এই তরুণ নেতার মধ্যে।


মেয়র-ইলেক্ট হিসেবে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে মামদানি ঘোষণা করেন তাঁর ট্রানজিশন টিমের নাম— যেখানে রয়েছেন পাঁচজন মহিলা, তাদের মধ্যে দুইজন প্রাক্তন সিটি হল কর্মকর্তা ও একজন সাবেক ফেডারেল ট্রেড কমিশন চেয়ারও আছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রশাসন গড়ব যা হবে দক্ষ ও মানবিক। উৎকর্ষ, সততা ও নতুন সমাধানের ক্ষুধা— এই তিন নীতিতেই আমাদের নিয়োগ হবে।”


তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নিউইয়র্কের অর্থায়ন বন্ধ করেন বা শহরে ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তিনি “আদালতের দ্বারস্থ” হবেন।


যদিও নির্বাচনের পর ট্রাম্প তাঁর সুর নরম করেছেন, বলেছেন “নিউইয়র্ক সফল হোক” — তবুও মামদানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ম্যান্ডেট ব্যবহার করে তিনি প্রগতিশীল সংস্কারের এক উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন।


এর মধ্যে রয়েছে ভাড়ার স্থিতিশীলতা, বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, এবং প্রতিটি বরোতে শহর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করার পরিকল্পনা— যাতে শ্রমজীবী নিউইয়র্কবাসী সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেতে পারেন।


লালিগুরাস বিস্ত্রোর সেই দুপুরে তাই শুধু মোমোর গন্ধই ভেসে আসেনি— ভেসে এসেছে এক নতুন আমেরিকার সম্ভাবনা, যেখানে শহর, রাজনীতি ও মানুষ— সবাই মিলে গড়বে এক সহানুভূতিশীল, সমানাধিকারভিত্তিক ভবিষ্যৎ।