আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফ্রান্সের তুলুজ শহরের রঁগুইল (Rangueil) হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক অভাবনীয় ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রবল অস্বস্তি ও যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা ২৪ বছরের এক যুবক হাসপাতালে পৌঁছন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি নিজের মলদ্বারে একটি বড় আকারের বস্তু ঢুকিয়েছিলেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা যে জিনিসটি উদ্ধার করেন, তা দেখে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান সবাই, এটি ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪–১৯১৮) সময়কার একটি আট ইঞ্চি লম্বা আর্টিলারি শেল, অর্থাৎ যুদ্ধের গোলা।

ঘটনাটি সামনে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা জারি করে। কারণ, গোলাটি বিস্ফোরিত হয়নি অর্থাৎ এটি ছিল জীবন্ত গোলা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Unit) এবং দমকল বাহিনীকে ডাকা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের একটি বড় অংশ খালি করে দেওয়া হয় এবং পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রের চারদিকে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

এক পুলিশ সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, “রোগী অত্যন্ত যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় হাসপাতালে আসে। জরুরি অস্ত্রোপচারের সময় মলদ্বার থেকে যে বস্তুটি পাওয়া যায়, সেটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি আর্টিলারি শেল। যেহেতু সেটি বিস্ফোরিত হয়নি, তাই বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল।”

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হন যে পুরনো ব্রাস ও কপারের তৈরি এই গোলাটি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করবে না। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দমকল বাহিনী পুরো সময় জুড়ে প্রস্তুত অবস্থায় ছিল, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তবে কীভাবে এই যুদ্ধকালীন গোলা তাঁর শরীরে প্রবেশ করল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফরাসি প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কিছু ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি কোনও পার্টি বা মদ্যপ অবস্থায় করা ‘স্টান্ট’ হতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যদিও এই দাবি সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, প্রসিকিউটররা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং ‘ক্যাটাগরি এ মিউনিশন’—অর্থাৎ অত্যন্ত বিপজ্জনক যুদ্ধাস্ত্র—অবৈধভাবে রাখার ও ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন পশ্চিম ফ্রন্টে ব্রিটিশ ও ফরাসি সেনাদের বিরুদ্ধে ইম্পেরিয়াল জার্মান বাহিনী লক্ষ লক্ষ আর্টিলারি শেল ব্যবহার করেছিল। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর সেই যুদ্ধেরই একটি অবশিষ্ট গোলা এভাবে একটি আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আতঙ্ক ছড়াবে—এ কথা কেউ কল্পনাও করেনি।