আজকাল ওয়েবডেস্ক: নগর নিরাপত্তা জোর পাকিস্তানের, চুরি ছ্যাঁচড়ামি রুখতে এবার বিরাট পদক্ষেপ করা হল। পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে প্রচুর সংখ্যায় ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির ঘটনা ঘটে। অতিষ্ট প্রশাসন। কোনও আবেদন, লঘু পদক্ষেপে কাজ হয়নি। তাই এবার ম্যানহোলের ঢাকনা চুরিকেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য বিরাট শাস্তির ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার।
ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে এবার ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা জরিমানা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাকে ইতিমধ্যে অনেকে ‘গাটার আইন’ নামে উল্লেখ করছে।
কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ, প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কন্যা। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির বিষয়ে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। ভিডিও-তে তিনি বলেছেন, "সকালে ঢাকনা বসানো হলেও সন্ধ্যার মধ্যে তা উধাও হয়ে যাচ্ছে। আর এই চুরি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।" মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, "শুধু চোরদের জন্য নয়, বরং যারা চুরির মাল কিনবে বা বিক্রি করবে তারাও এই একই শাস্তি পাবে। যদি এই চুরির জেরে কারোর মৃত্যু ঘটে, তাহলেও এই সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হবে।"
এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। কারণ, সম্প্রতি লাহোরের ডাটা দরবার এলাকার কাছে একটি খোলা নর্দমায় পড়ে এক মা ও তাঁর শিশু কন্যার মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতা ওই মহিলার নাম সাদিয়া এবং শিশু কন্যার নাম রিদা ফাতিমা। উন্নয়নমূলক কাজ চলছিল, ফলে খোলা ছিল ম্যানহোলে। আর সেখানেই মা-মেয়ে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এছাড়াও সারগোধা শহরে একটি শিশু খোলা ম্যানহোলে পড়ে গেলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। পাঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে এরকম দুর্ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
তবে প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে সবথেকে বড় কারণ অর্থনৈতিক সঙ্কট। কারণ, ম্যানহোলের ঢাকনায় থাকে বড় ভারী লোহার রিং, যার ওজন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি। ফলে বাজারে এর ভাল দাম। ফলে দুষ্কৃতীরা ম্যানহোল চুরি করে বিক্রি করছে।
আন্তর্জাতিক অর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের দারিদ্র্য পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে এবং ১৬.৫ শতাংশ মানুষ চরম দরিদ্র সীমাতে বসবাস করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধীরগতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দারিদ্র আরও বাড়ছে। সেই আর্থিক চাপেই ছোটখাটো চুরি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে প্রশাসন।
