আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ। এ বার ক্ষুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই-এর উপরেও জারি নিষেধাজ্ঞা। নরওয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুল ব্যবহার প্রায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের এআই ব্যবহারের পরিধি ও নিয়মেও জারি করা হবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গায়ার স্টোয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বলে খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

 

বিগত বছরগুলিতে নরওয়ের পড়ুয়াদের পরীক্ষার ফল উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই স্কুলগুলিতে নরওয়ে সরকার স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি, ক্লাসরুমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নানা পদক্ষেপ করা হয়। এবার আরও দু'পা এগিয়ে এআই প্রযুক্তিতেও আনা হল নিয়ন্ত্রণ।

 

প্রধানমন্ত্রী স্টোয়ার বলেন, "স্কুলশিক্ষায় এআই ব্যবহারের ফলে শিশুদের শেখার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্কুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সন্তানরা যাতে সঠিকভাবে পড়তে, লিখতে এবং অঙ্ক শিখতে পারে।"

 

জানা গিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের শেষের দিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। বয়স অনুযায়ী এআই ব্যবহারের জন্য রয়েছে নতুন নিয়ম। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী-

 

১। প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণী (বয়স ৬-১৩ বছর): এই বয়ঃসীমার পড়ুয়াদের জন্য স্কুলে এআই-এর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

 

২। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণী (বয়স ১৪-১৬ বছর): শিক্ষকের কঠোর তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমিতভাবে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে পড়ুয়ারা।

 

৩। উচ্চ মাধ্যমিক (বয়স ১৭-১৯ বছর): উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতির জন্য এই স্তরের পড়ুয়াদের সঠিকভাবে এবং যথাযথ ভাবে এআই ব্যবহার করতে পারবে।

 

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকেই নরওয়ের ক্লাসরুমগুলিতে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকে বই ও হাতের লেখার চেয়ে ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে এই প্রযুক্তির উপর অতিনির্ভরতা থেকে এখন উল্টো পথে হাঁটতে চাইছে নরওয়ে সরকার। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, ট্যাবলেটের ব্যবহার কমিয়ে ক্লাসরুমে আবার কাগজের বই ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নতুন আইন পাসের প্রস্তাব করা হবে। যার মাধ্যমে বই কেনার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে।

 

মূলত, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নরওয়ে। এর আগে গত এপ্রিলেই সরকার ঘোষণা করেছিল যে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে তারা। যুবসমাজকে প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ করছে নরওয়ে সরকার।