আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাঁদের বুকে ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ সম্ভবত চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ এই সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা। তবে নিশ্চিতভাবে এই ধাক্কার প্রমাণ পেতে বিজ্ঞানীদের আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
যে বস্তুটি চাঁদে আঘাত করেছে, সেটি কোনও সম্পূর্ণ রকেট নয়। এটি ছিল ফ্যালকন ৯ রকেটের উপরের অংশ। এই অংশটি প্রায় ১২ মিটার লম্বা এবং এর ওজন প্রায় ৪,৫০০ কিলোগ্রাম। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
মিশন শেষ হওয়ার পর রকেটের এই অংশটি মহাকাশে ভেসে চলছিল। গত ১৯ মাস ধরে এটি পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ধীরে ধীরে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে। সূর্যের আলো থেকেও সামান্য চাপ এর গতিপথে প্রভাব ফেলেছিল। এই ছোট ছোট পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত এটিকে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের পথে নিয়ে আসে।
স্পেস এক্স জানিয়েছিল, রকেটের এই অংশের জ্বালানি শেষ করে সেটিকে নিরাপদ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তবে এত বেশি শক্তির কক্ষপথে থাকা এই ধরনের অংশকে নিয়ন্ত্রিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
কতটা শক্তিশালী ছিল এই সংঘর্ষ?
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৮,৭০০ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়েছে। এই সংঘর্ষের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান।
চাঁদের কোনও বায়ুমণ্ডল নেই, তাই পৃথিবীর মতো বায়ুর ঘর্ষণে এর গতি কমেনি। ফলে প্রায় সম্পূর্ণ গতিতেই রকেটের অংশটি চন্দ্রপৃষ্ঠে আঘাত করেছে। এর ফলে চাঁদের মাটিতে নতুন একটি গর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষের ফলে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিটার চওড়া একটি গর্ত তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ১০ লক্ষ কিলোগ্রামেরও বেশি চন্দ্র ধুলো ও পাথরের টুকরো ছিটকে যেতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?
বিজ্ঞানীদের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কোনও প্রাকৃতিক উল্কাপিণ্ডের আঘাত নয়। রকেটটির ওজন, গতি, আকার এবং সংঘর্ষের সময় আগে থেকেই জানা ছিল। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া একটি আঘাতকে সরাসরি পর্যবেক্ষণের বিরল সুযোগ পাচ্ছেন গবেষকরা। এই ঘটনা ভবিষ্যতে চাঁদের ভূকম্পন গবেষণাতেও সাহায্য করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, কৃত্রিম সংঘর্ষের পর চাঁদের মাটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
















