ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা সামনে চলে এসেছে। এর পরেই ভারত কৌশলগত জ্বালানি ভাণ্ডারের প্রয়োজনীয়তা বোধ করতে শুরু করেছে।
2
11
ভারত ৪২ বিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা) পরিকল্পিত কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভের অর্থ জোগাড় করার জন্য রান্নার গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাসের গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করতে পারে।
3
11
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সূত্র জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের বাইরেও ভারতের কৌশলগত মজুদ প্রসারিত হবে।
4
11
এই মজুদ প্রায় দু’মাসের অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা এবং প্রায় ছয় সপ্তাহের তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি করা হবে।
5
11
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের উপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে রান্নার ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণের পরিকাঠামোর টাকা জোগাড় করা হবে। যা থেকে বছরে প্রায় ১২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
6
11
সূত্রটি জানিয়েছে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক প্রতি কেজি এলপিজির উপর ১.২৯ টাকা (০.০১৩৬ মার্কিন ডলার) শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। মন্ত্রক এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
7
11
এর ফলে বর্তমান ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে বছরে প্রায় ৪,৩৭৩ কোটি টাকা আয় হবে। এই শুল্ক আরোপের ফলে সাধারণ গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের খরচের সঙ্গে প্রায় ১৮ টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে।
8
11
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য মন্ত্রক প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটারে ১.৪৩ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। বর্তমান ব্যবহারের হারে এর ফলে বছরে প্রায় ৯৫০০ কোটি আয় হবে।
9
11
কীভাবে এই শুল্ক আদায় করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের দাবি, এই অর্থ প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক ও রান্নার গ্যাস সংরক্ষণের পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের মজুদ ও কৌশলগত জ্বালানির মজুতে অর্থ জোগান অব্যাহত থাকবে।
10
11
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূত্র নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছে। কারণ প্রস্তাবটি বিভিন্ন মন্ত্রকে এখনও বিবেচনাধীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও পায়নি।
11
11
সূত্রটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই শুল্কের ফলে বাড়ির গ্যাসের খরচ প্রায় ২ শতাংশ বাড়তে পারে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের ফলে গৃহস্থালীর খরচ ইতিমধ্যেই বেড়েছে। এরই মাঝে মোদি সরকার এই পদক্ষেপ করে কি না সেটাই দেখার বিষয়।