সবারই স্বপ্ন থাকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে একটি সুন্দর, বড়সড় বাড়ি কেনা, যেখানে পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে বাকি জীবন কাটানো যায়। ব্রিটেনের বাসিন্দা ন্যাথান হ্যানাওয়ে এবং তাঁর পরিবারও ঠিক এমনটাই ভেবেছিলেন। সমস্ত সঞ্চয় ও বাজেট বাড়িয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের হোয়াইট হল এলাকার একটি বিলাসবহুল পাঁচ বেডরুমের ভিক্টোরিয়ান বাড়ি কিনেছিলেন তাঁরা। ছোট ফ্ল্যাট ছেড়ে বড় বাড়িতে এসে বাচ্চারা যেমন খোলামেলা জায়গা পাবে, তেমনই মনের মতো করে বাগান সাজানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু নতুন বাড়িতে পা রাখার পরেই সেই আনন্দ এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, যখন তাঁরা আবিষ্কার করেন যে তাঁদের স্বপ্নের বাড়ির বাগানে শিকড় গেড়ে বসেছে বিশ্বের অন্যতম এক বিপজ্জনক ও সর্বনাশা উদ্ভিদ!

কী এই ভয়ের উদ্ভিদ? কেন এত আতঙ্ক? সাধারণ কোনও আগাছা নয়, এটি হল জাপানিজ নটউইড (Japanese Knotweed), যাকে বিশ্বের অন্যতম ধ্বংসাত্মক উদ্ভিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রথমে ন্যাথান বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, বাগানে লালচে ছোপযুক্ত কাণ্ড ও কচি পাতা উঁকি দিতে দেখে তিনি খোঁজখবর শুরু করেন। আর অনুসন্ধান করার পর যে তথ্য তাঁর হাতে আসে, তাতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়!

জানা যায়, এই গাছটির মাটির নিচে এমন এক শক্তিশালী শিকড়ের জাল বা নেটওয়ার্ক থাকে, যা নিমেষেই একটি বাড়ির শক্তপোক্ত ভিত, ইঁটের মজবুত দেওয়াল, বেড়া এবং জলের পাইপলাইন পর্যন্ত ফাটিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারে। ন্যাথান দেখতে পান ইতিমধ্যেই তাঁর নতুন বাড়ির তিনটি আলাদা জায়গায় এই উদ্ভিদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। বাড়ির ফাউন্ডেশন রক্ষা করতে বাধ্য হয়েই অবিলম্বে গাছটি হটানোর কাজ শুরু করেন ন্যাথান। কিন্তু জাপানিজ নটউইড নির্মূল করা তো আর মুখের কথা নয়! যখন খননকারীর দল কোমর বেঁধে কাজ শুরু করেন, তখন মাটির নীচের যে বিশাল ও ঘন শিকড়ের জাল তাঁরা দেখতে পান, তাতে সকলের চোখ কপালে ওঠে!

 

এই বিপজ্জনক উদ্ভিদটি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবং বাড়ির জমি পরিষ্কার করতে ন্যাথানকে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১৬ লক্ষ টাকা খেসারত দিতে হয়। ন্যাথান জানান, তাঁর বাড়ির সংস্কার এবং বাগান সুন্দর করার বাজেটের একটি বড় অংশই এই অনাহূত আপদ তাড়াতে চলে গেছে।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হল, ন্যাথান ও তাঁর পরিবার অজান্তেই এমন একটি এলাকায় বাড়ি কিনেছিলেন যা জাপানিজ নটউইডের জন্য ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ! নতুন তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৯,০০০ জনসংখ্যাবিশিষ্ট হোয়াইট হল এবং ব্ল্যাকবার্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জাপানিজ নটউইডের কেস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এটিকে পুরো যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম নটউইড হটস্পটে পরিণত করেছে। আর এখানেই গিয়ে ফেঁসেছিলেন ন্যাথান। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ভিদটি এক মরশুমেই প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিকভাবে পরিচর্যা না করলে বাতাসের মাধ্যমে বা মাটির সঙ্গে এর ছোট টুকরো চারিপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রপার্টি বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করে জানিয়েছেন যে, বাড়ির আশেপাশে এই গাছের উপস্থিতি সম্পত্তির রিসেল ভ্যালু বা পুনর্বিক্রয় মূল্য এক ধাক্কায় মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। তাই বাড়ির আশেপাশে এমন গাছ দেখা মাত্রই অবিলম্বে সতর্ক হওয়া জরুরি।

 

আপনিও আপনার বাড়ির আশেপাশে খুঁটিয়ে দেখেছেন তো?