আজকাল ওয়েবডেস্ক: নজর ছিল বুধ সন্ধের দিকে। ভার্চুয়ালি বার্তায় কোন কোন বিষয়ের কথা উল্লেখ করবেন মুজিব কন্যা? যে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন, সেই পাঁচ তারিখেই কি তিনি ঘোষণা করবেন ঘরে ফেরার কথা? হাসিনার বক্তব্যের আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী জানান, হাসিনা ফিরতে চান বাংলাদেশে। তারপরেই জল্পনা আরও তীব্র হয়।

 

এদিনের বক্তব্যে হাসিনা বললেন, তিনি ফিরবেন দেশে, ফিরবে আওয়ামী লিগও। তবে এবার আর ক্ষমতার জন্য নয়, ফিরবেন দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। হাসিনা বলেন, 'আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নই, চিন্তিত বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে। আমি ফিরতে চাই, কারণ  নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শান্তি বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য।' 

 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমার এবং আওয়ামী লিগের প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কাছে, ক্ষমতার জন্য নয়, ফিরব বাংলাদেশকে সঠিক পথে চালিত করার জন্য। বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে চালিত করতে। আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই কেবল একটিই কারণে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের জীবন যাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে। আমি তাঁদের বিশ্বাস করি, ভালবাসি, আমি তাঁদের কাছে ফিরব।'  

 

এর আগেও হাসিনা উদ্বেগ-আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর কারাবাস হলেও, কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হলেও, ফিরবেন দেশে। বুধেও একই কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের মাঝেই জানান, গ্রেপ্তারি, কারাবাসের ঝুঁকি থাকলেও, তা নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন। জনগণের প্রতি তাঁর কর্তব্য থেকে কোনওভাবেই বিরত  রাখা যাবে না তাঁকে। 

 

একইসঙ্গে হাসিনা এবং জয়ের বক্তব্যে, উঠে আসে ভারত প্রসঙ্গ। শেখ হাসিনা এদিন বক্তব্যে বলেন, ভারত তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। হাসিনা-পুত্র জয় জানান, মুজিব-কন্যাকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দিয়েছে ভারত সরকার। 


এদিন বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ভেঙে পড়েন। তোলেন পরিবারের কথা, ভাইয়ের কথা। ১৯৭১-এর কথা তুললেন হাসিনা। তুললেন ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের কথাও। একদিকে যেমন অভিযোগ করলেন, তাঁর জমানার উন্নয়ন নষ্ট হওয়ার কথা, অন্যদিকে দিলেন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। ২০২৪ সালের কোটাসংস্কার আন্দোলন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল না বলেও দাবি করলেন পদ্মাপারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে অভিযোগ করলেন, সেই সময় তাঁকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি কোনওভাবেই তাঁর দেশের জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাননি। 

 

এদিন হাসিনা অভিযোগ করেন, গত দু'বছরে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বক্তব্যে জানান, এখন ঘরবাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে ভয়ের পরিবেশ। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, এটি সেই বাংলাদেশ নয়। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাপ্রবাহ থেমে যায়নি ৫ আগস্ট, তাঁর দেশত্যাগের পরেও। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখও করেন তিনি।