আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল ভাষণের আগে দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ ও অস্থিরতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ তারেক রহমান।


তারেক রহমান সতর্ক করে বলেছেন, দেশে যদি অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বা বিভেদ তৈরি হয়, তাহলে তার সুযোগ নিতে পারে “ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি”। তিনি দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।


বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার দিল্লি থেকে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর ক্ষমতা হারানোর পরে এটিই তাঁর প্রথম বড় প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি হতে চলেছে।


আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। পাশাপাশি প্রায় দুই বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।


এর আগে সংবাদ সংস্থা AFP-কে দেওয়া এক ই-মেল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে বা জেলে পাঠানো হতে পারে—এই সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি অবগত। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান, কারণ তাঁর দাবি, দেশের মানুষ তাঁকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছিল। চলতি বছরের জুনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।


শেখ হাসিনার এই ভার্চুয়াল ভাষণকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।