আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাশিয়া এবং ইরানের তেল কেনার জন্য ভারতকে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র ভারত নয়, এক্ষেত্রে তেল আমদানিকারী অন্য দেশগুলির উপরেও একই নিয়ম চালু হবে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে যে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিলেন, তার মেয়াদ বৃদ্ধি করছেন না। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'রাশিয়া এবং ইরানের তেল কেনার ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না।'
প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ মার্কিন রাজস্ব দপ্তর জানিয়েছিল, ভারতের তেলশোধক সংস্থাগুলি সমুদ্রে ভাসমান রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে তেল কিনতে পারবে। এর দিন কয়েক পরেই ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার তেল কেনার মেয়াদ ছিল গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। ইরানের তেল কেনার মেয়াদ ছিল ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৩ মার্চ থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর জেরে বিশ্ব জুড়েই তেল সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ভারত-সহ অন্যান্য দেশগুলিতে তেল সঙ্কট দেখা দেয়। তারপর গত ৬ মার্চ ভারতকে রাশিয়ার তেল আমদানির অনুমতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবার ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে জট কাটেনি। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল আবারও দ্বিতীয় শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে। এই আবহে দুই দেশের তেল কেনার ছাড়ে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতে জন্য আবারও দুঃসংবাদ। আবারও ভারতে তেলের সঙ্কট ও জ্বালানির সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভারতের জন্যেও এটি বড় ধাক্কা। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আশা ছিল, শীঘ্রই হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে এখনও সমঝোতা হয়নি। যা ঘিরে ভারতের দুশ্চিন্তার প্রহর শুরু হল।















