আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, স্প্যাম এবং স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপ রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বড় ভূমিকা নিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে—অনেক প্রকৃত ব্যবহারকারীর দাবি, ইনস্টাগ্রাম তাদের অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধ করছে বা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করছে, অথচ বহু সিন্থেটিক বা বট অ্যাকাউন্ট এখনও সক্রিয় রয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পোস্ট, মন্তব্য, ফলো, লাইক ও কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রকৃত ব্যবহারকারীদের আচরণও কখনও বটের মতো মনে হতে শুরু করে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও ব্যবহারকারী যদি খুব দ্রুত অনেক অ্যাকাউন্ট ফলো করেন, স্বল্প সময়ে বহু পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেন বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাহলে AI সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। ফলে প্রকৃত মানুষও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি AI-এর ব্যর্থতা নয়, বরং “ফলস পজিটিভ” এবং “ফলস নেগেটিভ”-এর সমস্যা। অর্থাৎ কখনও প্রকৃত ব্যবহারকারীকে ভুল করে বট হিসেবে ধরা হয়, আবার কখনও বটকে প্রকৃত ব্যবহারকারী হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ হল ভারসাম্য বজায় রাখা। যদি খুব কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আবার নিয়ম শিথিল হলে স্প্যাম ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বেড়ে যেতে পারে।
ডিজিটাল জগতে AI-নির্ভর পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের পর্যবেক্ষণ, আপিল প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছ নীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—কীভাবে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, যেখানে ভুয়ো কার্যকলাপ রোধ করা যাবে, কিন্তু প্রকৃত ব্যবহারকারীদের অযথা শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। কারণ সামাজিক মাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ এখনও মানুষই, অ্যালগরিদম নয়।















