আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না! ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত। এ বার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে মার্কিন দূতদের তৈরি করা খসড়া প্রস্তাবে গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুম'-এ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্থায়ী শান্তি চুক্তিটি আরও কঠোর করতেই ট্রাম্প এই সংশোধনীর নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সংশোধিত চুক্তির এই রূপরেখা ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির পরিবর্তনের কথা বলা হলেও, সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন। তবে অন্য একটি সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর দাবি, মূল সংশোধনীতে মূলত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং 'হরমুজ প্রণালী' ফের অবাধে খুলে দেওয়ার জন্য নানা শর্তের কথাই বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান কীভাবে তাদের পরমাণু উপাদান আমেরিকার হাতে তুলে দেবে এবং তার সময়সীমা কী হবে—সে বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শর্ত যুক্ত করতে বলেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার আইনি ভাষা ও শর্তাবলি নিয়েও পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনিক বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দাবি করেন, দু'দেশ একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই হরমুজ প্রণালী থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে যদি এর উল্টোটা হয়, তা হলে ফের সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বাড়বে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর অনড় অবস্থানের কথা ফের একবার স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, "চুক্তি সই হওয়ার সাথে সাথেই এই হরমুজের জলপথটি খুলে দেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা কার্যত ওদের সামরিক বাহিনীকে পরাস্ত করেছি। চুক্তির মাধ্যমে আমি শুধু একটি গ্যারান্টি চাই, তা হল ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না এবং তারা এই শর্তে রাজি হয়েছে।"
অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের কারণে আলোচনা আরও কয়েকদিন দীর্ঘায়িত হতে পারে। এই নতুন প্রস্তাবের জবাব দিতে ইরানের অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই দেশ আগামী ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি প্রাথমিক মউ স্বাক্ষরে রাজি হয়েছে। তবে স্থায়ী চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন ট্রাম্পের পাঠানো নতুন শর্তের ওপর ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।















