আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে একটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। আলোচ্য বিষয় এটাই যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চলের মধ্যে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যও।

তবে কী ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ? এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের এই আপডেট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশন বুধবার সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ইরানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনঅসন্তোষের জেরে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশন জানিয়েছে, একটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকে কেন্দ্র করে গঠিত এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে একাধিক যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে একটি সাবমেরিনও আছে।

সূত্রের দাবি, এটি নতুন অঞ্চলে পৌঁছতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের এই এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারটি যা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিচ্ছে।

এই নতুন পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের একটি কৌশলগত স্থানান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানে চলতি অস্থিরতা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য সমর্থন নিয়ে ওয়াশিংটনে চলা আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিউজ নেশনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চল ৪০ লক্ষ বর্গমাইলেরও বেশি বিস্তৃত। যার মধ্যে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অংশ রয়েছে।

এই অঞ্চলে মোট ২১টি দেশ পড়ে, যার মধ্যে মিশর, ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য। যদিও এই নতুন পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তবে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা যে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।

এর আগে সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটির কিছু কর্মীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেসে কর্মরত নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হয়েছে।

তবে এই নির্দেশিকা বাড়তি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ বলেই জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।

অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামরিক ঘাঁটিগুলিতে যাতায়াত এড়ানো এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

তাদের আশঙ্কা, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক হামলা হলে গোটা অঞ্চল স্থিতিশীলতা হারাতে পারে। এর ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

এই উদ্বেগের জেরেই ইরানের প্রতিবেশী একাধিক দেশের সরকার সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে বলে জানা গেছে।