আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবার কুর্সিতেই বসছেন ছেলে। ইরান সোমবার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতাবা খামেনেইকে মনোনীত করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। তারপরও যে মধ্য এশিয়ার এই দেশে কট্টরপন্থীদের রমরমা রয়ে গিয়েছে মোজতাবার মনোনয়নই তার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
৮৮ সদস্যের ইরানি বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স) সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মধ্য-স্তরের ধর্মগুরু মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। ফলে মোজতবা এখন থেকে ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন। দেশের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তেহরানের স্থানীয় সময়ে মধ্যরাতের ঠিক পরে পরেই জারি করা এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, "একটি নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ আয়াতোল্লা সাইদ মোজতাবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র ব্যবস্থার তৃতীয় নেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছে।"
মোজতাবার নিয়োগ সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রবিবারই বলেছিলেন যে, ইরানে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বক্তব্য থাকা উচিত। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেছিলেন, "যদি তিনি (সর্বোচ্চ নেতা) আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।" ইজরায়েল হুমকি দিয়েছিল যে, যাঁকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাঁকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, এক সপ্তাহ আগে ইরানের প্রাথমিক পাল্টা হামলায় আহত হয়ে একজন আমেরিকান মারা গিয়েছেন। এই নিয়ে ইরানি হামলায় মোট সাত জন মারা গেলেন। উল্লেখ্য, শনিবারই ট্রাম্প নিহত ছয়জনের দেহাবশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রসংঘের রাষ্ট্রদূতের মতে, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১,৩৩২ জন ইরানি সাধারণ নাগরিক নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন।
এর আগে ইরানকে "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যার পাল্টা ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেছেন যে, তেহরান যুদ্ধবিরতি চাইছে না এবং আক্রমণকারীদের শাস্তি দেবে।
ইজরায়েল ইরানের শীর্ষ পদাধিকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যার মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতার সামরিক কার্যালয়ের সদ্য নিযুক্ত প্রধান আবুলকাসেম বাবাইয়ান, যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া
মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযানের নবম দিনে রবিবার ইরানের তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে হামলা চালায়। ফলে ইরানে রাতের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছিল। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকেরর মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন যে, বৃহৎ আকারের আক্রমণ সংঘাতের একটি "বিপজ্জনক নতুন পর্যায়" চিহ্নিত করেছে এবং এটা একটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, "জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে, আক্রমণকারীরা বিপজ্জনক বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছে।"
ইজরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের বলেছেন যে, তেলের ডিপোগুলি ইরানের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রোপেল্যান্ট তৈরি বা সংরক্ষণ করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে এই হামলা বৈধ।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে, তাঁর সরকার আক্রমণ চালিয়ে যাবে এবং ইরানের শাসকদের "করুণা ছাড়াই" আঘাত করবে। ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, "আমাদের একটি সংগঠিত পরিকল্পনা রয়েছে যার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে এবং পরিবর্তন আনতে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটবে।"
একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইজরায়েল সফরে যাবেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি এই সংঘাতের অবসানের জন্য আলোচনা চান না, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, ব্যবসা ব্যাহত করেছে এবং বিমান যাতায়াতকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, "কোনও সময়ে, আমার মনে হয় না যে 'আমরা আত্মসমর্পণ করছি' বলার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে।"
