আজকাল ওয়েবডেস্ক: শত্রুতা নয়, বরং ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চান জিনপিং। ন'বছর পর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে এবার বড় পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প ও জিনপিং। 

 

প্রায় ৯ বছর পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের সরকারি সফরে বেজিঙে গিয়েছেন। বুধবার বিকেলেই বেজিঙে পৌঁছে যান ট্রাম্প। সেই সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যাং জ়েং। গতবারের তুলনায় এবারে আতিথেয়তায় আপ্লুত ট্রাম্প। 

 

বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিয়েনানমেন স্কোয়ারে ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন তাঁরা। এই বৈঠকেই জিনপিং বার্তা দেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চান তিনি। অন্যদিকে জিনপিংকে 'বন্ধু' সম্বোধন করেছেন ট্রাম্প। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকেই জিনপিং ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, "যখন দু'পক্ষ সহযোগিতা করে, লাভবান হয়। দু'পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়লে, ক্ষতবিক্ষত হতে হয়।" অন্যদিকে বৈঠক শুরুর পরে জিনপিঙের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, "আপনার বন্ধু হতে পেরে আমি সম্মানিত।" এই সাক্ষাৎ 'সম্মানের বিষয়' বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এমনকী বেজিঙের এই বৈঠক 'সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন' বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

 

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে জিনপিং ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, "আসুন, আমরা একসঙ্গে মিলে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি। গোটা বিশ্ব আমাদের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমাদের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পরস্পরের সঙ্গী হওয়া উচিত। একে অপরকে সফল ও সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করাও উচিত।" 

 

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালে চীন সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের মসনদে বসার পর গত বছরের শুল্ক উত্তেজনার পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনিতিও হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার আবহে এই দুই দেশের বৈঠকের পরিণতি কী হয়, তার দিকেই মুখিয়ে রয়েছেন সকলে।