আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ইরানের নাগরিকদের তিনি জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই তিনি এই ঘোষণা করেন।

সাম্প্রতিক হামলার পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইজরায়েলের চলতি সামরিক অভিযান ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেবে।

সাধারণ মানুষের কাছে এই সময়ে বর্তমান নেতৃত্বকে উৎখাত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘সন্ত্রাসী শাসন’ হিসেবে আখ্যা দেন।

ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা সন্ত্রাসী শাসনের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব। আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করব, যাতে ইরানের সাহসী জনগণ অত্যাচারের শৃঙ্খল ভেঙে নিজেদের মুক্ত করতে পারে। এই কারণেই আমি আবারও আপনাদের উদ্দেশে কথা বলছি।’

ভিডিও বার্তাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বর্তমান সময়কে এক বিরল ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নিষ্ক্রিয় না থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনারা এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। এটা এমন একটা সুযোগ, যা বারবার আসে না। চুপ করে বসে থাকবেন না, কারণ আপনাদের সময় খুব শিগগিরই আসছে।’

নেতানিয়াহু ইরানিদের ‘লাখে লাখে রাস্তায় নেমে’ বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর কথা বলেন। তাঁর দাবি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট এই বার্তায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিও আহ্বান জানান। তিনি পারস্য, কুর্দি, আজেরি, আহওয়াজি ও বালুচ জনগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘যে মুহূর্তে আপনাদের রাস্তায় নামতে হবে, সেই সময় এসে গেছে। রাস্তায় নেমে কাজ শেষ করুন, সন্ত্রাসী শাসনকে উৎখাত করুন, যা আপনাদের জীবনকে তিক্ত করে তুলেছে। আপনাদের ত্যাগ ও কষ্ট বৃথা হবে না। যে সাহায্যের জন্য আপনারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন, তা এসে গেছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পন্ন করার। পারস্য, কুর্দি, আজেরি, আহওয়াজি ও বালুচ—এখনই সময় একজোট হয়ে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার।’