আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে এক কুকুর ও একটি বিড়ালকে ড্রোনে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন এক মানবিক গল্প। প্রাণী অধিকার সংস্থা ইউঅ্যানিম্যালসের দাবি, প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই দুই প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।


খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন ছিল ইউক্রেনের ১৪তম সেপারেট মেকানাইজড ব্রিগেড। তারা মূলত সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে ড্রোন ব্যবহার করছিল। ফেরার পথে ওই ড্রোনটিকেই ব্যবহার করা হয় এক অভিনব কাজে—দুটি অসহায় প্রাণীকে উদ্ধার করতে।


ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর একটি ব্যাগ থেকে প্রথমে কুকুরটিকে বের করা হচ্ছে, তারপরে বেরিয়ে আসে বিড়ালটি। যদিও ড্রোনে চেপে তাদের উড়ে যাওয়ার দৃশ্য নেই, কিন্তু উদ্ধার-পরবর্তী মুহূর্তগুলোই আবেগ ছুঁয়ে গেছে বহু মানুষের মন। এক সেনা মজা করে বিড়ালটিকে বলে, “আমি তো কখনও ড্রোনে চড়িনি!” তারপর সে যোগ করে, “এখন থেকে তুমি আমাদেরই। দেখো, সে ইতিমধ্যেই গরগর করছে—সে খুশি। নিশ্চয়ই ওড়াটা উপভোগ করেছে। আমরা তোমাকে ভালো খাবার দেব।”


ব্রিগেডের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বার্তায় লেখা হয়, “একটি অনন্য ঘটনা! আমাদের সৈন্যরা বড় হৃদয়ের মানুষ।” তারা আরও জানায়, ড্রোনটি কাজ শেষ করে ফিরছিল, তখনই সৈন্যরা সিদ্ধান্ত নেয় এই সুযোগে বিপজ্জনক এলাকা থেকে একটি কুকুর ও একটি বিড়ালকে উদ্ধার করা হবে।


জানা গেছে, বিড়ালটি আসলে এক আহত সেনার পোষ্য, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সহযোদ্ধার পোষ্যকে বাঁচানোর পাশাপাশি আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো একটি কুকুরকেও ফেলে আসেননি তারা। ফলে একই ড্রোনে দুই প্রাণীকেই উদ্ধার করা হয়।


ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেও এরকম বহু মানবিক গল্প সামনে এসেছে। ২০২২ সালে কিয়েভের বাসিন্দা ওলেনা লুকাশ নামে এক নারী নিজের জীবন বাজি রেখে প্রায় ৫০টিরও বেশি কুকুরকে উদ্ধার করেছিলেন। প্রথমে ২০টি ফরাসি বুলডগ নিয়ে তিনি পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন। পরে আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ফিরে গিয়ে আরও ৩০টি প্রাণীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন।

 

&t=546s
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও এই ধরনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে। অস্ত্র আর সংঘাতের মাঝেও কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যারা সত্যিই “বড় হৃদয়ের মানুষ”।