আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ বাঁও জলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। কেন? নেপথ্যে কী শুধুই ট্রাম্পের শুল্ক নীতি? আসল কারণ ফাঁস করলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁর সাফ দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অহংবোদের জেরেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি থমকে গিয়েছে। হাওয়ার্ড লুটনিকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। যার জেরেই ভারতকে আকাশছোঁয়া ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে এবং আরও শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন যে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তিটি নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকারের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে।
লুটনিক দাবি করেন যে, পুরো বাণিজ্য চুক্তিটি প্রস্তুত ছিল, কিন্তু সেটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির, ট্রাম্পকে ফোন করা প্রয়োজন ছিল। তাঁর যুক্তি, তবে ভারত সরকার এতে স্বচ্ছন্দ ছিল না এবং মোদি শেষ পর্যন্ত ফোন করেননি।
মার্কিন বাণিজ্য সচিব বলেন, "পুরো চুক্তিটি প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যাক, এটি ছিল তাঁরই (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) দেখানো পথে (ট্রাম্পের) চুক্তি। তিনিই চুক্তি সম্পন্নকারী। তিনিই চুক্তি করেন। শুধু মোদিকে প্রেসিডেন্টের কাছে ফোন করতে হতো। কিন্তু মোদি বা ভারত সরকারের পক্ষে কোনও উচ্চপদাধিকারী সেটি করতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। মোদি ফোন করেননি। আমরা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছি। আমরা তাদের আগেই ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির কথা ভেবেছিলাম।"
লুটনিক আরও জানান, যে শর্তে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছিল, তা এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই। মার্কিন বাণিজ্য সচিবের কথায়, "আমরা আগে যে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সরে এসেছে। আমরা এখন আর এটা নিয়ে ভাবছি না।"
