২০২৬ সালে আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত।
2
8
এই সময় চাঁদ লালচে আভা ধারণ করে, কারণ পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের লাল আলোকে বেঁকিয়ে চাঁদের উপর ফেলায় চাঁদ রক্তিম দেখায়।
3
8
২০২৬ সালের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি ৩ মার্চ ২০২৬ রাতে দেখা যাবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণের আংশিক পর্যায় শুরু হবে দুপুর ৩টা ১২ মিনিট নাগাদ। পূর্ণগ্রাস বা ‘ব্লাড মুন’-এর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটে। সর্বোচ্চ বা পিক ফেজ হতে পারে ৫ টা ৫৮ মিনিটে।
4
8
গ্রহণের সম্পূর্ণ সময়কাল প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে দেশের অধিকাংশ অংশ থেকেই এটি খালি চোখে দেখা যাবে।
5
8
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে। পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। তবে সম্পূর্ণ অন্ধকার না হয়ে চাঁদ লালচে দেখায়, কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো ছড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো চাঁদের দিকে বেঁকে যায়। এই ঘটনাই ‘ব্লাড মুন’ নামের কারণ।
6
8
চন্দ্রগ্রহণ দেখতে কোনও বিশেষ চশমা বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। সূর্যগ্রহণের মতো চোখের ক্ষতির ঝুঁকিও নেই। খোলা আকাশে দাঁড়িয়ে, দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও এই দৃশ্য উপভোগ করা যায়। শহরের আলো কম এমন জায়গায় গেলে দৃশ্য আরও পরিষ্কার দেখা যাবে।
7
8
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতাও হতে পারে। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা ও অবজারভেটরি এই উপলক্ষে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে পারে।
8
8
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ‘ব্লাড মুন’ ভারতের আকাশে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হয়ে উঠবে। পরিষ্কার আকাশ থাকলে এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা মিস না করাই ভাল।