আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে খোলা মাটির মাঠজুড়ে সারি সারি সদ্য খোঁড়া কবর। ছবিতে সাদা চক দিয়ে চিহ্নিত আয়তাকার কবরস্থানগুলো সারিবদ্ধ হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিস্তৃত, পাশে শোকাহত মানুষের সমাবেশ। সম্ভবত দাফনের প্রস্তুতি চলছে। ইরানের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলায় ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। সেই নিহতদের জন্যই এই কবর। 

ছবিটি পোস্ট করে আব্বাস আরাঘচি লেখেন, “১৬০-এর বেশি নিরীহ কিশোরীকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, হত্যা করেছে। বিদ্যালয়ে বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করেছে। তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন,  “গাজা থেকে মিনাব, নিরীহদের আসলে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হচ্ছে।” ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও পৃথক এক পোস্টে একই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে। তারা কবরস্থানটিকে উল্লেখ করে লিখেছেন, “ছোট ছোট ফেরেশতাদের জন্য ছোট ছোট কবর”। লিখেছেন,  “মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এখন স্বর্গে আছে। পাশাপাশি আছে।” 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ, স্থানীয় এক প্রসিকিউটরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় ৯৬ জন আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

ভিডিও ফিটেজ ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্কুলব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করতে দেখা গেছে। দৃশ্যগুলোতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট। ইরান জাতিসংঘে বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, এটি বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা। তাদের ভাষায়, এটি “যুদ্ধাপরাধ” এবং এমন এক অপরাধ, যা সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধতা করে। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা যে এলাকায় হামলার কথা বলছেন, সেখানে কোনো হামলার বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগের রিপোর্ট তারা পর্যালোচনা করছে। 

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট এমন এক সময়, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ছবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সারি সারি কবরের দৃশ্য এবং নিহত কিশোরীদের বয়স দেখে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

&t=20s