আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপড়েন আর যুদ্ধের মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল বিশ্ববাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা করতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় রবিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৮ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম ১১১ ডলারে পৌঁছেছিল, যা এখন ফের তিন অঙ্কের ঘরে ফিরে এল।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের জাহাজ যাতায়াত বন্ধ করে দেবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, তাই ট্রাম্পের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই অবরোধ মূলত ইরানের জাহাজগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে। নতুন এই নির্দেশিকা সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

তেলের বাজারের এই অস্থিরতা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে। গত মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। পরে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে দাম ৯২ ডলারের নিচে নামলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্বস্তি উধাও। যদিও ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কাগজ-কলমে যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে শনিবার মাত্র ১৭টি জাহাজ ওই পথ পার হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে এশীয় ও মার্কিন শেয়ার বাজারেও। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছে। মার্কিন বাজারেও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার সূচকের পতন হয়েছে প্রায় ০.৮ শতাংশ। লগ্নিকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী, যা সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর জল এখন যতটা উত্তাল, বিশ্ব বাজারও ঠিক ততটাই অস্থির।