আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একানেই না থেমে এবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর উপর মাশুল চাপানোর কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক পরিস্থিতে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই পথ দিয়ে মার্কিন-ইজরায়েল ও তাদের সহযোগী দেশগুলোকে যাতায়াত করতে দিচ্ছে না তেহরান। এছাড়া যুদ্ধের খরচ তুলতে অন্য়ান্য দেশের তেলবাহী জাহাজে কর চাপানো হয়েছে। এবার সেই পথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম চর্চিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "কেন আমরা টোল আদায় করব না? ওদের টোল আদায় করতে দেওয়ার চেয়ে বরং আমি নিজেই তা করতে চাই।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি মাশুলের ভাবনা বাস্তবায়িত করে, তবে সম্ভবত হরমুজ প্রণালীর ওপর সরাসরি মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হবে। এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এর অধিকাংশ অংশই ওমান ও ইরানের জলসীমার অন্তর্ভুক্ত।
মধ্য প্রাচ্যে জারি রয়েছে হামলা। সংকট আরও বাড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা। এ দিকে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের ঘোষণা করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর আগের দাবিই তুলে ধরে বলেছেন যে, ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যদিও ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের অবরোধ বজায় রেখেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, "আমরাই বিজয়ী। আমরা জিতেছি, ঠিক আছে? তারা সামরিকভাবে পরাজিত। তাদের হাতে এখন কেবল একটাই অস্ত্র আছে। তা হল এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশল -ওহ, আমরা হয়তো জলে দু-একটা মাইন পুঁতে দেব। আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, আমরাও টোল আদায় করব।"
জাহাজ শিল্পের তথ্য দানকারী ওয়েবসাইট 'লয়েডস লিস্ট' জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে।
কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান হয়তো ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে কিছু নির্দিষ্ট জাহাজের কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে।
ট্রাম্প যদি এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান এবং একই ধরণের কোনও মাশুল আরোপ করেন, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন গড়ে ২৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে।
ইরানের প্রতি ট্রাম্পের 'চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি'
ট্রাম্পের সর্বশেষ এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন তিনি তেহরানের প্রতি একটি 'চূড়ান্ত' হুঁশিয়ারি জারি করেছেন। তিনি ইরানকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী ফের চলাচলের জন্য খুলে দেয় এবং ওয়াশিংটনের শর্তাবলি মেনে নেয়। অন্যথায় ইরানকে তাদের অসামরিক পরিকাঠামো, (যার মধ্যে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত) এর ওপর হামলার মুখোমুখি হতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, "ইরানকে মাত্র এক রাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব, এবং সেই রাতটি হতে পারে আগামীকাল (মঙ্গলবার) রাতই।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাঁর বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই তাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, নয়তো তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতের একটি সময়সীমা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ‘এক্স’ (X) প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, "হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর যুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না।"
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই জলপথটি পরিচালনার জন্য "নতুন কোনও ব্যবস্থার" আহ্বান জানিয়েছেন। এমন একটি ব্যবস্থা যা জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে এবং একই সাথে ইরানের স্বার্থও রক্ষা করবে।
গত মার্চ মাসে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, "আমি মনে করি, যুদ্ধের পর প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন প্রটোকল বা বিধিমালা প্রণয়ন করা। "স্বভাবতই, এই কাজটি হওয়া উচিত সেই দেশগুলোর মধ্যে, যাদের ভূখণ্ড এই প্রণালীর উভয় পাশে অবস্থিত।"
















