আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত থাকার মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের জন্য মানবিক কারণে ওয়াশিংটন ইরানকে ‘এক সপ্তাহের বিরতি’ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরানের নেতৃত্ব এতটাই চাপে রয়েছে যে তারা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য মরিয়া।
মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ইরানের নেতৃত্বের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া। আমরা মানবিক কারণে ওদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি। কারণ আমরা মানবিক মানুষ।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন শুক্রবার তেহরানে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন ধরে ইরান ও ইরাকে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং শোকযাত্রা চলবে। ৯ জুলাই তাঁর কবর দেওয়ার কথা।
এদিকে, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের আগে ১ জুলাই কাতারের দোহায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পৃথক বৈঠক হয়। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। উভয় পক্ষই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
কাতারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, তেহরানে খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাঁর কফিনের পাশাপাশি বিমান হামলায় নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনও রাখা হয়েছে। শোকস্তব্ধ জনতার অনেকেই অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত জনতার একাংশ “প্রতিশোধ চাই” এবং “আমেরিকার মৃত্যু হোক” স্লোগান দিতে থাকেন, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচিত অংশ।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে খামেনেইয়ের বিশাল ছবি ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। শিয়া রীতি মেনে বহু মানুষ বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শেষকৃত্য ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বকে নতুন করে জনসমর্থন জোগাতে পারে।
প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সে যুদ্ধের প্রথম দিকে এক বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাঁর ছেলে আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে ইরানের শাসক মহল জানিয়েছে।
আগামী কয়েকদিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা-য় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনেইয়ের মরদেহ রাখা হবে। এরপর তেহরান, কোম, বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে কবর দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।















